নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (সিএমএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের জোরালো দাবি উঠে এসেছে। "বাংলাদেশে শ্রম অধিকার: চ্যালেঞ্জ, সংস্কার ও সম্ভাবনা" শীর্ষক এই আলোচনায় শ্রম মন্ত্রণালয়, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, গবেষক ও আইএলও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শ্রম ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। সরকার একা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে না।" তিনি শ্রমিক-মালিক সম্পর্কে ভারসাম্য আনা এবং একাডেমিয়াকে এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত করার আহ্বান জানান।

আলোচনায় উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুপারিশ:

  • জাতীয় মজুরি কমিশন গঠন

  • শ্রমিক ডাটাবেজ তৈরি

  • মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি

  • অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষা

শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ স্বীকার করেন, "এই প্রতিবেদন নিখুঁত নয়, কিন্তু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।" তিনি ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে শ্রম মন্ত্রণালয় ও এনএসইউর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যা শ্রম গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে যৌথ সহযোগিতার পথ সুগম করবে। এনএসইউর উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, "আমরা শ্রম অধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করব, যাতে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।"

আইএলওর নিারান রামজুথান সতর্ক করে বলেন, "যুব বেকারত্ব ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক সুরক্ষা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।" তিনি ত্রিপক্ষীয় সংলাপ জোরদারের উপর জোর দেন।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করে শ্রম সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, "শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পলিসি মেকার ও একাডেমিয়ার মধ্যে দূরত্ব কমাতে হবে।"

এই আলোচনা বাংলাদেশের শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সকল স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।

#শ্রমিক_অধিকার #শ্রম_সংস্কার #এনএসইউ #টেকসই_উন্নয়ন #শ্রম_মন্ত্রণালয়

Walton Ads