রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরির ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল সুব্রত বাইন ও তার নেতৃত্বাধীন চক্র। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হত্যার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। এই চক্রের পেছনে ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা, যাদের সহযোগিতায় হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ এনে সংগঠিত করা হচ্ছিল কিলার ও সন্ত্রাসীদের।

গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, ওই অর্থে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র সংগ্রহ ও সন্ত্রাসী নিয়োগ করছিল সুব্রত বাইন বাহিনী। মঙ্গলবার রাতে হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তরের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়।

রাজধানীর হাতিরঝিল থানার অস্ত্র মামলায় সুব্রত বাইনকে ৮ দিনের এবং তিন সহযোগী—মোল্লা মাসুদ, শ্যুটার আরাফাত ও শরীফকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে—অস্ত্রগুলো সীমান্ত থেকে এনে ঢাকার মগবাজার, গুলশান, শাহবাগসহ কয়েকটি এলাকায় বিতরণের পরিকল্পনা ছিল। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন দলের নেতাদের হত্যার পর, ঘটনাকে দলীয় দ্বন্দ্ব হিসেবে প্রচার করে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করাই ছিল উদ্দেশ্য।

গোয়েন্দাদের প্রশ্নে সুব্রত বাইন জানান, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার তার নাম শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় রাখায় তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। পরে বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের নির্দেশেই চক্রান্তে যুক্ত হন।

এখন গোয়েন্দা সংস্থা সন্ত্রাসীদের তালিকা ধরে অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে।

Walton Ads