বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের গুঞ্জনের বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এখনই সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। জাপানের নিক্কি এশিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিইনি, তাই জাপানে এসে দিলে আরও জটিলতা তৈরি হতো।”

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে সুতা, তেল ও গ্যাস কেনার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শিল্পে ব্যবহারের জন্য প্রায় ৭.৯ বিলিয়ন ডলারের তুলা ও সুতা আমদানি করে, যার বেশিরভাগ আসে মধ্য এশিয়া ও ভারত থেকে। তিনি বলেন, “আমরা কেন না যুক্তরাষ্ট্র থেকেই কিনি? এতে তাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমবে, আমাদেরও লাভ হবে।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘কটন বেল্ট’ অঞ্চলের রাজনীতিকরা বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করে থাকেন এবং এই সম্পর্ককে কাজে লাগানো হবে।

দেশীয় প্রসঙ্গে ড. ইউনূস অভিযোগ করেন, আগের সরকার দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। এর মধ্যে ১১-১২ বিলিয়ন ডলার এরই মধ্যে শনাক্ত ও জব্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, এই অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে একটি “সার্বভৌম সম্পদ তহবিল” গঠন করা হবে। এ তহবিল শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যয় করা হবে।

ড. ইউনূসের এই অবস্থান ও পরিকল্পনা দেশে-বিদেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতুহল আরও জোরালো হয়েছে।

Walton Ads