উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার রাতে দেওয়া এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় জাতির স্তব্ধ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন এবং বলেন, “আগুনে পুড়ে যাওয়া শিশুদের মা-বাবাকে আমরা কী জবাব দেব?”

তিনি বলেন, “আমার কোনো ভাষা নেই, কোথা থেকে শুরু করব বুঝে উঠতে পারছি না। পুরো জাতি আজ বিস্মিত, হতবাক। আমরা কল্পনাও করিনি যে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটতে পারে। এ দুর্ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি জাতীয় শোকের বিষয়।”

প্রশিক্ষণ বিমানটি স্কুলের ভবনে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক আগুনে পুড়ে একাধিক শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। ভিডিও বার্তায় ইউনূস বলেন, “যে শিশুরা আগুনে পুড়ে মারা গেল, তাদের মা-বাবা এখন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে সন্তানদের খুঁজছেন—কিন্তু কেউ জানে না, আর চেনাও যাচ্ছে না। আমাদের সবাইকে বলতে হচ্ছে, তারা তো আমাদের সন্তান, সারা জাতির সন্তান।”

তিনি আরও বলেন, “তদন্ত তো করবই, কিন্তু তাতে তো আর তারা ফিরে আসবে না। এ ঘটনা আমাদের জাতীয় মননে গভীর দাগ কেটে যাবে। আমাদের এখন দায়িত্ব, আমরা যেন কোনোভাবে দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর পাশে থাকি। হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ করছি—কারণ আহতদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। আমাদের কাছ থেকে কোনো সংক্রমণ যেন না ছড়ায়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের স্মরণে জাতীয়ভাবে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। “আমরা সবাই একত্রে তাদের জন্য দোয়া করব, যেন তারা শান্তিতে থাকে। আজ থেকে আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করব।”

ড. ইউনূস তার ভিডিও বার্তায় বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু আমাদের সন্তান। এই শোক শুধু পরিবারগুলোর নয়, এটি গোটা জাতির শোক। আল্লাহ যেন এই সন্তানদের জান্নাত নসিব করেন এবং মা-বাবা ও স্বজনদের ধৈর্য ও শান্তি দান করেন।”

তিনি তার বার্তায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, “আজ আমরা সবাই শোকাহত, কিন্তু এই শোক থেকেই আমাদের নতুন করে ভাবার এবং আরও সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।”

Walton Ads