রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৩ জন দগ্ধ শিক্ষার্থীকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭ শিশু আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আরও ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
দগ্ধদের বয়স ৯ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। যেমন, আবিরের শরীরের ৯০%, নাজিয়ার ৮০%, মেহেরিন চৌধুরী ও আনিজনের ১০০% দগ্ধ হয়েছে। এই অবস্থায় তাদের বাঁচিয়ে রাখা চিকিৎসকদের জন্যও চরম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার কিছু পর। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। ভবনের ভেতরে তখন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও বিমান বাহিনীও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।