রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দগ্ধ হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরে জান্নাত ইউশা। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটি হওয়ার পর ভাই তাহমিন হাসান রোহান ইউশাকে নিতে গিয়ে দেখতে পান, পুরো স্কুল চত্বর ধ্বংসস্তূপে পরিণত। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তিনি দেখতে পান ইউশার শরীরের অধিকাংশ অংশ দগ্ধ।
বর্তমানে ইউশা ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের করিডোরে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা ইয়াসমিন আক্তার। কণ্ঠ ধরে আসা কাঁদো কণ্ঠে তিনি বলেন, “মেয়ে শুধু বলছে, ‘মা, আমার সব জ্বলে’। আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”
ইউশাকে প্রথমে উত্তরার একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
একই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছে ইউশার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া চাচাতো বোন মেহরিনও। তার মামা ফাহাদ নিয়ন জানান, “ওর মুখ, হাত—সব পুড়ে গেছে। এত ছোট একটা মেয়ে, সারাদিন শুধু পড়াশোনার মধ্যেই থাকত।”
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি আহত শিক্ষার্থীকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা গোটা জাতিকে শোকাহত করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন শোকস্তব্ধ, আর অভিভাবকরা নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।