ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ. এফ. এম. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, সৌদি আরবের রয়েল গ্রান্টের ২৪৪ কোটি টাকা অনুদানে আইকনিক মসজিদ নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। তিনি রোববার সচিবালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ’র সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন বিভাগ থেকে জমি প্রস্তাব ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে প্রায় ৩২ লাখ বাংলাদেশি সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এছাড়া সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নেও বাংলাদেশিরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। তিনি সৌদি সরকার ও হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়কে এ বছর সফল হজ ব্যবস্থাপনার জন্য ধন্যবাদ জানান।
আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নয়নের জন্য মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় ওয়াশরুমের সংখ্যা বাড়ানো, নিরবচ্ছিন্ন পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মিনার তাঁবুতে বড় সাইজের বেডের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন তিনি।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বিন আবিয়াহ এসব প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নে সৌদি আরবের সহযোগিতা বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকে হজযাত্রীদের লাগেজে আরএফআইডি ট্যাগিং চালু এবং ঢাকায় আরবি ভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় ধর্ম বিষয়ক সচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিক ও হজ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মো. মনজুরুল হক উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রয়েল গ্রান্টে নির্মিতব্য মসজিদগুলো দেশের ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ইসলামিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতির প্রচারও বাড়বে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মসজিদ নির্মাণ সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি পর্যটকরাও উপকৃত হবেন। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।