২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৯ এপ্রিল এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
এ মামলায় বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন আমিনুল গণি টিটো। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া শুনানি করেন। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে আইনজীবী মামুনুর রশীদ, ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।
এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ছয় আসামি হলেন— এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।
তবে মামলার আরও ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদ। পলাতক এসব আসামির হয়ে আদালতে আইনি লড়াই করছেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া চার আইনজীবী।
মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থা তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।
পরে ২২ জুলাই পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে।
সবশেষে ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্ধারিত দিনে এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করবে ট্রাইব্যুনাল।
