জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে মুসলিমদের আপত্তি খারিজ, জেলা আদালত হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষে

ভারতের উত্তর প্রদেশে জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলায় বারাণসী জেলা আদালত মুসলিম পক্ষের আপত্তি খারিজ করে হিন্দুত্ববাদীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে মামলাটি শুনানিযোগ্য বলে জানিয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানি হবে। আদালতের এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুসলিম পক্ষ হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

২০২১ সালের ১৮ আগস্ট ৫ জন হিন্দু মহিলা জ্ঞানবাপীর ‘মা শৃঙ্গার গৌরী’ (ওজুখানা ও তহখানাসহ) এবং মসজিদের পশ্চিমের দেওয়ালে দেবদেবীর মূর্তির অস্তিত্বের দাবি করে তা পূজার্চনার অনুমতি চেয়েছিলেন বারাণসী দায়রা আদালতে। এর পর দায়রা আদালতের বিচারক রবিকুমার দিবাকর নিযুক্ত কমিটি মসজিদে জরিপ ও ভিডিয়োগ্রাফির নির্দেশ দিয়ে পর্যবেক্ষক দল গঠন করে।   

আদালতে আবেদনকারী পাঁচজন মহিলার নেতৃত্বে রয়েছেন দিল্লির রাখি সিং। বাকি চার মহিলা হলেন বেনারসের সীতা সাহু, মঞ্জু ব্যাস, লক্ষ্মী দেবী এবং রেখা পাঠক। ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল বারাণসী সিভিল কোর্ট জ্ঞানবাপী মসজিদ কমপ্লেক্সে  ভিডিওগ্রাফি এবং জরিপের নির্দেশ দিয়েছিল।

জ্ঞানবাপী ‘অঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটি’র আইনজীবী অভয় নাথ বারাণসী জেলা আদালতে জানিয়েছিলেন, ১৯৯১ সালের ধর্মীয় উপাসনাস্থল রক্ষা (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন অনুযায়ী এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি হতে পারে না। তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলেও জ্ঞানবাপীর জমিতে মন্দির গড়ার দাবি উঠেছিল। ১৯৩৬ সালে বারাণসীর আদালতে সেই আবেদন জানানো হলেও জ্ঞানবাপীতে নামাজের অধিকার বজায় থাকে ১৯৩৭ সালের রায়ে। ১৯৪২-এ ইলাহাবাদ হাই কোর্টও সেই রায় বহাল রেখেছিল।    

অন্য দিকে, হিন্দুত্ববাদী পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণু জৈন এবং হরিশঙ্কর জৈনের দাবি, ১৯৯১ সালের আইন জ্ঞানবাপীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাদের দাবি, ১৯৪৭ সালের পরেও শৃঙ্গার গৌরীস্থলে পূজার্চনার প্রমাণ রয়েছে।

অবশেষে জেলা আদালত মামলাটি শুনানিযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় এ সম্পর্কে হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষের আবেদনকারী মঞ্জু ব্যাস বলেছেন, ‘ভারত আজ খুশি, আমার হিন্দু ভাই-বোনেদের এটি উদযাপনের জন্য প্রদীপ জ্বালানো উচিত। আজ দেশে দীপাবলি উদযাপিত হবে।’   

ওই বিষয়ে মাওলানা খালিদ রশিদ ফিরিঙ্গি মহলি বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, এর পর সবাই আশা করেছিল এখন আমাদের দেশে মন্দির-মসজিদ নিয়ে বিবাদ হবে না, কিন্তু তা সত্ত্বেও এ ধরনের বিষয় সামনে আসছে। তিনি বলেন, আজকের সিদ্ধান্ত আইনী টিম অধ্যয়ন করবে এবং তার পরই কেউ তাদের মতামত জানাতে পারবে। এখন আগামী তারিখে উভয়পক্ষই তাদের বক্তব্য পেশ করবে। তিনি বলেন, শতশত বছর ধরে মসজিদে নামাজ হচ্ছে, সেখানে মসজিদ কায়েম রয়েছে। সেখানে নামাজ চলবে এবং আদালত এ বিষয়ে কোনো কথা বলেনি।
খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২২/একে

Walton Ads