পশ্চিমবঙ্গে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের সময় হড়পা বানের বিপর্যয়ে মৃত ৮, মোদী-মমতার শোকপ্রকাশ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির মাল নদীতে আচমকা হড়পা বানে বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকপ্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তপন অধিকারী (৭২), ঊর্মি সাহা (১৩), রুমুর সাহা (৪২), আনস পণ্ডিত (৮), বিভা দেবী (২৮), শুভাশিস রাহা (৬৩), শোভনদ্বীপ অধিকারী (২০) সুস্মিতা পোদ্দার (২২) নামে মৃত ৮ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত বলেন, ‘রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ হড়পা বান নেমেছিল। তার জেরে কয়েক জন ভেসে যান। কয়েক জন নদীর মাঝে একটা চরে আশ্রয় নেন। যারা আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের সকলকে উদ্ধার করা হয়েছে।’
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে নদীর মাঝামাঝি এলাকায় যেতে হয়েছিল দর্শনার্থীদের। আচমকা নদীর পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার ফলেই এমন বিপর্যয় হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গতকালের পর আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজে শামিল হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। ওই ঘটনায় ১৬ জনকে মালবাজারের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বার্তায় বলেছেন, ‘জলপাইগুড়িতে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে আমি ক্ষুব্ধ। ওই দুর্ঘটনায় যারা মারা গেছেন, তাদের পরিবারের প্রতি গভীর শোকপ্রকাশ করছি।’
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের সময় জলপাইগুড়িতে মাল নদীতে হড়পা বানে বিপর্যয় হয়েছে। আট জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ১৩ জনের চিকিৎসা চলছে। তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এখনও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও স্থানীয় যুবকদের সাহায্যে কমপক্ষে ৭০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, আর কেউ নিখোঁজ নেই।’
এ প্রসঙ্গে আজ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জন বার্লা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, ‘আগে নদীর পাশ থেকে ভাসান দেওয়া হতো। কিন্তু এবার মাঝখানে করা হয়েছে। তাছাড়া রাতে এটা করা উচিত হয়নি। সন্ধ্যা ৫টার মধ্যে বিসর্জন শেষ হওয়া উচিত ছিল।’
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ পাল্টা জবাবে বলেন, 'ওদের তো ডেডবডিকে নিয়েই রাজনীতি। ওরা সেই রাজনীতিটাই করছেন। আমাদের কাছে ওই মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার সময় বা পরিবেশ নেই। দুর্গতদের পাশে কীভাবে দাঁড়ানো যায়, আমরা সেই বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছি। যদি কেউ নিখোঁজ থাকে, তাকে খুঁজে বার করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। প্রশাসনের কী গাফিলতি ছিল, সেগুলি পরে খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু সেটা নিয়ে তরজা করার সময় নেই। এই বিষয় নিয়ে যারা রাজনীতি করছেন, তাদের মানবিকতা কতটা আছে, সেই বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।'
অন্যদিকে, রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী এমপি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়্যের সমালোচনা করে বলেছেন, 'এই বাংলায় মানুষের জীবনের তো কোনও মূল্য নেই, হড়পা বানে মরে, তড়িতাহিত হয়ে মৃত্যু হয়। চলতে চলতে মরে, ড্রেনে পড়ে মরে, ডেঙ্গিতে মরে, এ বাংলায় মৃত্যু তো ছেলেখেলা। আসল খেলা ‘দিদি’ খেলতে জানেন, বাকি সব কিছু ছেলে খেলা। ’ ‘স্বাস্থ্য নিয়ে, শিক্ষা নিয়ে, জীবন নিয়ে এখানে ছেলে খেলা হয়। তারই পরিণাম এগুলো' বলেও মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী এমপি।
।খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২২/একে