দিল্লির সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত হাজারো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে সোমবার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

নতুন দিল্লির জান্তর মান্তর এলাকায় বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় মিছিলটি সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছাতে পারেনি। পুলিশের riot gear পরিহিত সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এই সংঘর্ষের কারণে সংসদের উভয় কক্ষের অধিবেশন স্থগিত রাখা হয়।

এই আন্দোলনটির নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারতের যুবসমাজের সংগঠন 'কোকরোচ জনতা পার্টি', যার নেতা অভিজিৎ দীপকে বর্তমানে জান্তর মান্তরে অনশন করছেন। কিছু সময় পর আন্দোলনকারীদের দুই প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। মন্ত্রী তাদের শান্তিপূর্ণ সমাপ্তির আহ্বান জানান এবং প্রশাসনিক সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী X (পূর্বের Twitter) প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, সকালে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভকারীরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয় এবং ১১:৫০ এএম থেকে আলোচনা শুরু হয়। agitators লিখিত দাবি পত্রও প্রদান করেন। মন্ত্রী বলেন, "আমি সকল বিক্ষোভকারীকে অনশন শেষ করে প্রশাসনের সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেছি।" তবুও সন্ধ্যা পর্যন্ত জান্তর মান্তর এলাকায় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান করে এবং পুলিশি বাধার মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে।

 

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ


ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নিয়ে এমন বিশাল ছাত্র আন্দোলন দেশের শিক্ষানীতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় স্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এ ধরনের বিক্ষোভ সরকারের নীতি নির্ধারণে চাপ সৃষ্টি করে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের সম্ভাবনাকে জোরদার করতে পারে। পাশাপাশি, তরুণ সমাজের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নাগরিক সচেতনতার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা দেশের গণতন্ত্র ও বিক্ষোভের স্বাধীনতার মধ্যে সঠিক সীমানা নির্ধারণে নতুন বিতর্ক উত্থাপন করেছে।

 

Walton Ads