মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ছয় বছরের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায়। তবে এই বৈঠক ব্যর্থ হলে বড় ধাক্কা খাবেন ভারত— এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
বৃহস্পতিবার বিবিসিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক ফল না এলে ভারতের ওপর আরও শুল্ক বসানো হবে। ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“রুশ তেল কেনার কারণে আমরা ইতিমধ্যেই ভারতের ওপর সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করেছি। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শুল্ক আরও বাড়বে।”
এর আগেই চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক চাপান। আগে থেকেই থাকা ২৫% শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট হার দাঁড়িয়েছে ৫০%। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যত দুই দেশের বাণিজ্যে এক ধরনের নিষেধাজ্ঞার সমান।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তারা ইউক্রেন যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করছে। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন— মস্কো যদি শান্তিচুক্তিতে রাজি না হয় তবে “গুরুতর পরিণতি” ভোগ করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন,
“ইউরোপীয়রা শুধু বাইরে থেকে উপদেশ দিচ্ছে। বরং তাদেরও উচিত আমাদের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়া এবং সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপে প্রস্তুত থাকা।”
অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত ব্যাপক হারে সস্তা রুশ অপরিশোধিত তেল কিনছে। ২০২১ সালে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রুশ তেলের অংশ ছিল মাত্র ৩%। কিন্তু ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫-৪০%। দিল্লির যুক্তি— দরিদ্র জনগণকে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে বাঁচাতে সস্তা তেল কেনা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।
তবে বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের টানাপোড়েন দিন দিন বাড়ছে। ২৫ আগস্ট দিল্লি-ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন বৈঠক বসবে। কিন্তু কৃষি ও দুগ্ধপণ্যের শুল্ক কমাতে ভারতের অনীহা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসছে ২৭ আগস্ট থেকে। সেদিন ট্রাম্প ঘোষিত নতুন ৫০% শুল্ক কার্যকর হলে ভারত এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি করযুক্ত বাণিজ্য অংশীদার হয়ে যাবে। এতে ভারতের টেক্সটাইল, গয়না ও রপ্তানিমুখী শিল্পে বড় আঘাত আসবে এবং প্রবৃদ্ধি অর্ধ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।