মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপে নামলেন। সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানালেন— রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন শুরু করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময়ই পুতিনের সঙ্গে ফোনে এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।
জেলেনস্কির প্রস্তুতি
পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। তিনি বলেন, “রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যেকোনো ধরনের বৈঠকের জন্য আমি প্রস্তুত।”
হামলার পর কড়া বার্তা
এর আগে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি বলেন, ক্রেমলিন স্পষ্টতই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অবমূল্যায়ন করছে। আর এ কারণেই ইউক্রেনের জন্য নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এখন জরুরি বলে জোর দেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের ছবি ভাইরাল
হোয়াইট হাউস সোমবার রাতে একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় ওভাল অফিসে ট্রাম্প স্পিকারফোনে পুতিনের সঙ্গে কথা বলছেন। তার পাশে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবিতে আরও দেখা গেছে, একজন দোভাষী ট্রাম্পের বিপরীতে বসে নোট নিচ্ছেন।
সিএনএনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রথমে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করেন, তারপর জেলেনস্কি ও পরে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক চালিয়ে যান।
ম্যাক্রোঁর মন্তব্য
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, আলোচনার সবচেয়ে বড় ফলাফল হলো— যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে রাজি হয়েছে। তিনি জানান, "কয়েক দিন আগেও যেসব বিষয় স্পষ্ট ছিল না, আজ আমরা সেগুলোতে একমত হয়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপত্তা পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার মার্কিন প্রতিশ্রুতি।”
ম্যাক্রোঁ আরও জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপীয় নেতারা যে “ইচ্ছুকদের জোট” তৈরি করছিলেন, সেটি এখন ৩০ দেশে দাঁড়িয়েছে। এতে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন আরও দৃঢ় হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত
তবে ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক হলে সেটি আগে দ্বিপাক্ষিক আকারেই হতে হবে, তারপর ট্রাম্পকে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, “যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। আমরা বোমার নিচে বসে শান্তি আলোচনা করতে পারি না।”
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
ম্যাক্রোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পের পুতিনের প্রতি বিশ্বাসকে স্বাগত জানালেও রাশিয়ার ওপর ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি শান্তি চুক্তি ব্যর্থ হয়, তবে ইউরোপকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।