ভিসা প্রক্রিয়ায় দেরি, কয়েকশ শিক্ষার্থীর বৈধ মর্যাদা বাতিল ও পরে পুনর্বহাল, সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, গবেষণার তহবিল কমানো, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার।
এমনকি চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যাপকভাবে বাতিলের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যা তারা রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে দেখছে।
ভর্তির হার কমছে
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ছিল ১১ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী—মোট শিক্ষার্থীর ৬ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসের জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আগ্রহ মহামারি-পরবর্তী সময়ে সর্বনিম্নে নেমে গেছে।
সংগঠন নাফসা জানিয়েছে, এ বছর নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০-৪০% পর্যন্ত কমতে পারে। এতে সামগ্রিক ভর্তি কমবে প্রায় ১৫%। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা ইন্টারভিউর জটিলতা, অ্যাপয়েন্টমেন্টের অভাব ও নতুন যাচাই প্রক্রিয়া।
এ পতন সরাসরি আঘাত হানবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ টিউশন ফি দিয়ে থাকে এবং প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখে।
ইরানি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় আঘাত
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ইরানি শিক্ষার্থীরা। নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ হারিয়েছেন।
২৩ বছর বয়সী রোমিনা আয়োউবি, যিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিলেন, ভিসা জটিলতার কারণে যোগ দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি অন্য দেশে গিয়ে ইন্টারভিউ দিলেও এখন দেখছি আমার ছাড়া সবাই ঢুকতে পারছে।’