মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আলোচনায়। তিনি এবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে “যুদ্ধবীর” আখ্যা দিয়ে নিজেকেও একই উপাধির যোগ্য বলে দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহু একজন ভালো মানুষ, তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি যুদ্ধবীর… আমিও বোধহয় তাই। আমি তো মার্কিন বোমারু বিমান পাঠিয়েছিলাম ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে।”
ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গেছে। এমনকি তিনি এই হামলার প্রভাবকে হিরোশিমা ও নাগাসাকির পারমাণবিক বোমা হামলার সঙ্গেও তুলনা করেন।
তবে গত জুনে ফাঁস হওয়া এক মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো আসলে ধ্বংস হয়নি, আর সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ১৩ জুন, যখন ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করে। এতে ইসরায়েলে ২৮ জন নিহত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসিক ভবন ও একটি হাসপাতালে আঘাত লাগে। এমনকি ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁর দুর্নীতির বিচারকে “ডাইনী শিকার” বলে আখ্যা দেন এবং ইসরায়েলকে মামলা বাতিল বা ক্ষমা দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, “আমেরিকা নেতানিয়াহুকে রক্ষা করবে।”
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে “সাতটি বড় যুদ্ধ বন্ধ করেছেন,” যার মধ্যে একটি নিয়ে নাকি কেউ কিছুই জানে না। এছাড়া গাজা থেকে জিম্মি মুক্তির কৃতিত্বও নিজের কাঁধে নেন তিনি, যদিও এখনও সেখানে কয়েক ডজন মানুষ বন্দি রয়েছেন।