মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইসরাইল-ফিলিস্তিন নীতিতে দ্বিমত প্রকাশের কারণে বরখাস্ত করল শীর্ষ মুখপাত্র শাহেদ গোরেশিকে। গাজার ফিলিস্তিনিদের সম্ভাব্য জোরপূর্বক উচ্ছেদ সমর্থন না করার মত প্রকাশ করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর প্রো-ইসরাইল অবস্থান অনস্বীকার্য, আর এ পরিস্থিতিতে দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে গোরেশির বিবৃতির নির্দিষ্ট লাইন বাতিল করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইসরাইল-ফিলিস্তিন বিষয়ক শীর্ষ মুখপাত্র শাহেদ গোরেশিকে বরখাস্ত করেছে। এর পেছনে মূল কারণ ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতির সঙ্গে তার দ্বিমত প্রকাশ। গোরেশি ছিলেন ‘ব্যুরো অফ নিয়ার-ইস্ট এফেয়ার্স’ এর সিনিয়র প্রেস অফিসার।
গোরেশি একটি খসড়া প্রেস বিবৃতিতে লিখেছিলেন, “আমরা গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ সমর্থন করি না।” এ নিয়ে দপ্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লাইনটি মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বরখাস্তের মাধ্যমে কর্মচারীদের বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, প্রো-ইসরাইল নীতির থেকে সামান্য বিচ্যুতিও সহ্য করা হবে না।
শাহেদ গোরেশি বরখাস্তের পরে বলেছেন, তাকে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন, “ভালো সুনাম এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরও এই বিরোধ থেকে বাঁচা যায়নি।” তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা গাজার সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি উচ্ছেদ বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বরখাস্তের আগে গোরেশি আরও কিছু দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হন। ১০ আগস্ট হামাস সদস্য ও আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ নিহত হওয়ার পর তিনি সমবেদনা জানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দপ্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব তা আটকে দেয়। এছাড়া ইসরায়েল সফর সম্পর্কিত এক মেমোতে প্রশংসার লাইনও তিনি মুছে দেন।
গোরেশি স্পষ্ট করেছেন, তার মতপার্থক্য ট্রাম্পবিরোধী নয়, বরং তিনি মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তৃতা প্রশংসা করেছেন। তবে, পররাষ্ট্র দপ্তরের সপ্তম তলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গি মিলেনি।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সম্প্রতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। নতুন মুখপাত্র নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোক্সপার্সন টমাস পিগোট দায়িত্ব পালন করছেন।