তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে। চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে গাজার শিশুদের ভয়াবহ দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরতে।
এমিনে এরদোয়ান জানিয়েছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার শিশুদের জন্য মেলানিয়া ট্রাম্প সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিনকে যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, সেটিই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তুরস্কের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এই চিঠিতে তিনি লিখেছেন—
“আপনি ইউক্রেনের ৬৪৮ জন শিশুর প্রতি যে সংবেদনশীলতা দেখিয়েছেন, বিশ্বাস করি সেই মানবিকতা গাজার ক্ষেত্রেও প্রসারিত হবে।”
তাঁর মতে, মেলানিয়ার উদ্যোগ মানবতার যৌথ অনুভূতির প্রতিফলন। এরদোয়ান আরও লিখেছেন—
“আজ বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিন স্বীকৃতির দাবি জোরালো হচ্ছে। গাজার শিশুদের পক্ষে আপনার আহ্বান ইতিহাসে এক মানবিক দায়িত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
চিঠিতে তিনি তুলে ধরেন ভয়াবহ পরিসংখ্যানও। শুধু গত দুই বছরে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৬২,০০০-এর বেশি মানুষ। এর মধ্যে রয়েছেন অন্তত ১৮,০০০ শিশু। এরদোয়ান মেলানিয়াকে অনুরোধ করেছেন, নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানাতে—যাতে গাজার মানবিক সংকটের অবসান ঘটে।
এদিকে জাতিসংঘ-সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) জানিয়েছে, গাজা শহর ও আশেপাশে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। এটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই অঞ্চলেই বসবাস করছেন প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি—যা গাজার মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ। IPC তৈরি হওয়ার পর ২০ বছরে এ মাত্র পঞ্চমবার কোনো অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা হলো।
জাতিসংঘ বলছে, গাজায় পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি শিশু এখন মারাত্মক অপুষ্টির ঝুঁকিতে আছে। নিরাপদ পানি, দুধের বিকল্প এবং চিকিৎসা-খাবারের অভাবে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। শুধু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অপুষ্টিতে মারা গেছেন অন্তত ২৭০ জন, যার মধ্যে ১১২ জন শিশু।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু IPC-র এই রিপোর্টকে “মিথ্যা” দাবি করে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ইসরায়েলের নীতি কখনোই অনাহার সৃষ্টি করার নয়, বরং প্রতিরোধ করার।
চিঠির শেষে এমিনে এরদোয়ান জোর দিয়ে লিখেছেন—ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন—উভয় দেশের শিশুরাই সমানভাবে নিরাপত্তা, সুখ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের অধিকারী।