সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের এক বড় পরিবর্তনের খবর এলো। দেশটির উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে কুর্দি যোদ্ধারা সরে যাওয়া শুরু করায় সেখানে প্রবেশ করেছে সরকারি সেনাবাহিনী। মার্কিন মধ্যস্থতায় আলোচনা এবং কুর্দিদের অধিকার দেবার নতুন প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার থেকেই কুর্দি নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বাহিনী আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চল ছেড়ে যাওয়া শুরু করে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় আলোচনা। পাশাপাশি, সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা কুর্দিদের অধিকার ও স্বীকৃতি দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাও একটি বড় ভূমিকা রেখেছে।

সিরীয় সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, "সেনাবাহিনী ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ শুরু করেছে এবং দেইর হাফের এলাকার ওপর পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।" তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে, মাইন এবং অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র সরানো না পর্যন্ত যেন তারা এলাকায় না ফেরে। আশেপাশের এলাকাগুলো পুরোপুরি নিরাপদ করতে সামরিক অভিযান চলবে বলেও জানানো হয়েছে।

সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় থেকেই দেশের উত্তরে ও উত্তর-পূর্বের তেলসমৃদ্ধ বিশাল অঞ্চল কুর্দি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছর (২০২৪) দীর্ঘকালীন শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন প্রেসিডেন্ট আল-শারা কুর্দি সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রের মূলধারায় একীভূত করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে এখনও সেসব প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

কুর্দি বাহিনীর এই প্রত্যাহার এবং সিরীয় সেনার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখা যাক, প্রেসিডেন্ট আল-শারা কুর্দি সম্প্রদায়কে দেওয়া তার অধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেন কিনা।

 

news