আরব সাগরে টানাপোড়েন আবারও নতুন মাত্রা পেল। যুক্তরাষ্ট্র এক ইরানি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি), যখন একটি ইরানি ড্রোন মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দিকে 'আক্রমণাত্মকভাবে' এগিয়ে আসছিল বলে ওয়াশিংটনের দাবি।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বিবৃতিতে বলেছেন, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ-৩৫সি স্টিলথ ফাইটার জেট ওই ড্রোনটিকে গুলি করে নামিয়ে আনে। রণতরী ও তার কর্মীদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

মার্কিন পক্ষের বর্ণনামতে, ড্রোনটি তাদের রণতরীর দিকে এগিয়ে আসার সময় জাহাজটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে অবস্থান করছিল। ড্রোনটির উদ্দেশ্য কী ছিল, তা স্পষ্ট নয় বলেও তারা দাবি করে। এই ঘটনায় মার্কিন কোনো সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং কোনো সেনাসদস্যও আহত হননি।

এই ঘটনা ঘটেছে এক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক চরম সংকটের মুখে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতেই সম্প্রতি এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বহুগুণ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি চুক্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সরকারের দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে এর আগেও তিনি সামরিক হামলার কথা বলেছিলেন।

ড্রোন ভূপাতিতের এ ঘটনার পরও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সপ্তাহের শেষ দিকে নির্ধারিত ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি এখনও বহাল আছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট ফক্স নিউজকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই প্রথমে কূটনৈতিক সমাধান চান। তবে তিনি সতর্কও করে দেন, যদি আলোচনা কোনো ফল না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগসহ অন্যান্য সব বিকল্পই খোলা রাখছে।

 

news