ইরান জানিয়েছে, তারা তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত। বিশেষ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে এই সহযোগিতায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত SCOভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে ইরানের উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রেজা তালায়ি-নিক এই বার্তা দেন। খবরটি প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।
তিনি বলেন, “আমরা স্বাধীন দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে SCO সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বিনিময়ে আগ্রহী।”
তালায়ি-নিক আরও উল্লেখ করেন, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ ও ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করতে চায় ইরান।
এদিকে তিনি সম্প্রতি রাশিয়া ও বেলারুশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। দুই দেশই ইরানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাম্প্রতিক রাশিয়া সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে দেখানো যে ইরান কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিশ্চিত যে এই প্রতীকী কূটনীতির বাইরেও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।”
তার মতে, আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল—তেল রপ্তানির বিকল্প স্থলপথ খোঁজা, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা, কারণ ইরান সম্ভবত তেল মজুদের সংকটের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এলমাসরি আরও জানান, এই সফরের মাধ্যমে ইরান রাজনৈতিকভাবে একটি বার্তাও দিয়েছে যে তাদের শক্তিশালী মিত্র ও বন্ধু রাষ্ট্র রয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন—এ বিষয়টিও পরোক্ষভাবে তুলে ধরা তাদের একটি উদ্দেশ্য ছিল।