রাশিয়ার অত্যাধুনিক জেট চালিত গেরান চার ড্রোনের ভয়াবহ আক্রমণে বিধ্বস্ত ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো। একই সময়ে কিয়েভের রাজপথে নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রক্তক্ষয়ী গোলাগুলি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি সেনা হারিয়ে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইউক্রেন প্রশাসন।
রাশিয়ার মিলিটারি বাহিনী সম্প্রতি তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তির 'গেরান চার' (Geran-4) কামিকাজে ড্রোনের মাধ্যমে কিয়েভ এবং ওডেসা অঞ্চলে ভয়াবহ আক্রমণ চালিয়েছে। এই জেট চালিত ড্রোনগুলো পূর্বের যেকোনো মডেলের চেয়ে অনেক দ্রুতগামী এবং ইউক্রেনীয় এয়ার ডিফেন্সের পক্ষে এগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। মস্কোর এই সফল অভিযান ইউক্রেনীয় বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি গুড়িয়ে দিয়েছে।
কিয়েভের চাইকা (Chaika) লজিস্টিকস সেন্টারে রাশিয়া প্রথম নিখুঁত হামলা পরিচালনা করে। মস্কো জানিয়েছে, এই বিশাল কেন্দ্রটি মূলত মধ্যম ও দূরপাল্লার ড্রোনের পার্টস এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মজুত ও বিতরণের কাজে ব্যবহৃত হতো। এই সেন্টারটি ধ্বংস হওয়ায় কিয়েভের দূরপাল্লার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ওডেসা অঞ্চলেও একইভাবে রাশিয়ার ড্রোন বাহিনী ইউক্রেনীয় সামরিক নৌঘাঁটি, নেভাল ড্রোন তৈরির কারখানা এবং বিশাল জ্বালানি ট্যাংকে নির্ভুল আঘাত হেনেছে। সমুদ্রপথে ইউক্রেনীয় বাহিনীর আক্রমণের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই এই সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী সামরিক হামলা চালানো হয়। এর ফলে ইউক্রেনীয় নেভাল ড্রোনের প্রধান উৎপাদন ক্ষেত্রগুলো সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে গেছে।
কিয়েভের উপকণ্ঠ বিষ্ণুভোতে অবস্থিত ইউক্রেনীয় অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'ফায়ার পয়েন্ট' (Fire Point)-এর প্রধান লজিস্টিকস সেন্টারেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার মিলিটারি। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত এফপি এক এবং এফপি দুই নামের আক্রমণাত্মক ড্রোন তৈরি করত, যা ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরের এলাকায় হামলা চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল।
একই সঙ্গে বিষ্ণুভোর কাছেই অবস্থিত 'স্টেলার জেট' (Stellar Jet) নামের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস সুবিধা সফলভাবে ধ্বংস করেছে রাশিয়ার বাহিনী। এই হামলায় ব্যবহৃত নতুন ‘সিকার’ (Seeker) প্রযুক্তির গেরান চার ড্রোনগুলো ইউক্রেনের আধুনিক এয়ার ডিফেন্স রাডার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানে। এর ফলে ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদনকারী পুরো নেটওয়ার্ক এখন অচল হয়ে পড়েছে।
শুধু স্থলভাগেই নয়, কৃষ্ণসাগর এবং চেরনোমোর্স্ক বন্দরে ইউক্রেনীয় মিলিটারির জন্য রসদ বহনকারী দুটি বড় কার্গো জাহাজ সফলভাবে ধ্বংস করেছে রাশিয়ার বর্ডার গার্ড ও নেভি। রাশিয়ার বর্ডার ও নেভাল সিকিউরিটি সুনিশ্চিত করতে এই ধরনের কার্গো জাহাজে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বেসামরিক এনার্জি অবকাঠামো এবং বাণিজ্যিক গুদামগুলোতে অন্যায় ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছিল। এরই উপযুক্ত এবং কঠোর জবাব হিসেবে রাশিয়া তাদের দীর্ঘপাল্লার সুনির্দিষ্ট মিসাইল ও ড্রোন হামলা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়া স্পষ্টভাবে স্পষ্ট করেছে যে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার জবাব এভাবেই দেওয়া হবে।
ইউক্রেনের নেতা ভ্লাদিমির জেলেনস্কি (Zelenskyy) সম্প্রতি বিদেশী এয়ারলাইন্স ও বীমা কোম্পানিগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেছেন যে রাশিয়ার আকাশে নাকি আর কোনো নিরাপদ দিন থাকবে না। জেলেনস্কির এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য এক সরাসরি হুমকি এবং এর মাধ্যমে ইউক্রেনীয় প্রশাসনের চরম হতাশা প্রকাশ পেয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin) জেলেনস্কির এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ' (State Terrorism) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ভ্লাদিমির পুতিন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা হতে পারে না। ইউক্রেন যদি এমন কোনো অঘটন ঘটায়, তবে রাশিয়া তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও বলেছেন যে বেসামরিক জাহাজ বা বিমানে আক্রমণ চালানো সরাসরি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ভ্লাদিসোতকে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে তিনি বলেন, কিয়েভের এসব দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ কেবল পরিস্থিতি জটিল করছে এবং তাদের এই ধরনের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ শান্তি আলোচনার যেকোনো সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।
নরওয়েতে রাশিয়ার গবেষণাধর্মী জাহাজ 'প্রফেসর মলচানভ' (Professor Molchanov) বেআইনিভাবে আটকে রাখার বিষয়টিকে মস্কো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নাফতোগেজ (Naftogaz)-এর অনুরোধে এই কাজ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক জাহাজের অবাধ চলাচলের স্পষ্ট লঙ্ঘন। রাশিয়া আইনিভাবেই এই অন্যায়ের উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে।
গত এক মাসে ইউক্রেনীয় হামলায় প্রায় ১০০টি বেসামরিক রাশিয়ান মার্চেন্ট ভেসেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে নিরীহ নাবিক নিহত হয়েছেন। পুতিন এর আগে সতর্ক করেছিলেন যে রাশিয়ান জাহাজ জব্দ করা এবং পণ্য বিক্রি করা জলদস্যুতা ও ডাকাতির শামিল। বিশ্বব্যাপী রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষায় সামরিক বাহিনী যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
কিয়েভ প্রশাসন এখন জাতিসংঘের বিমান চলাচল সংস্থা 'আইসিএও' (ICAO)-এর কাছে আবেদন জানিয়ে রাশিয়ার আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। তবে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি কিয়েভের রাজনৈতিক দাবি মেনে নেয়নি, বরং সব দেশকে নিজ নিজ আকাশসীমা মূল্যায়নের সাধারণ পরামর্শ দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে কিয়েভের ড্রোন হামলায় এ পর্যন্ত বহু বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। তাতারস্তানের নিঝনেকামস্ক এবং তামবোভ অঞ্চলের সাধারণ গুদামে ইউক্রেনের হামলায় বহু নিরীহ শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। রাশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে তারা কেবল সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যে হামলা চালায়, বেসামরিক মানুষকে রাশিয়া কখনোই টার্গেট করে না।
ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থা এখন অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। কিয়েভের রাজপথে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ (SBU) এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এইচইউআর (HUR)-এর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে জেলেনস্কি নিজে অত্যন্ত 'লজ্জাজনক' বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন।
এই সংঘাতের জেরে জেলেনস্কি এসবিইউ-এর শীর্ষ কর্মকর্তা ওলেহ খরামভ (Oleh Khramov)-কে পদচ্যুত করতে বাধ্য হন। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে দুর্নীতি, ক্ষমতার লড়াই এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কতটা গভীর পর্যায়ে পৌঁছেছে, কিয়েভের মাঝরাস্তায় কর্মকর্তাদের এই গোলাগুলির মাধ্যমে তা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের ভেতরে জোরপূর্বক সাধারণ মানুষকে জোর করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার যে নীতি চালু রয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চরম তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনীয় আইনপ্রণেতা জিওর্গি মাজুরাশু (Georgy Mazurashu) কিয়েভ প্রশাসনের এই হিংসাত্মক ও বলপ্রয়োগের নীতিকে তীব্র সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে বক্তব্য দিয়েছেন।
রাস্তায় হেঁটে যাওয়া পুরুষদের জোর করে তুলে এনে মিলিটারি ট্রাকে তোলার ঘটনাকে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ এখন অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখছে। লভিভ এবং লুটস্ক শহরে সাধারণ জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে মিলিটারির গাড়িতে হামলা চালিয়েছে এবং সেনাসদস্যদের ধরে পিটিয়েছে। সাধারণ মানুষকে এভাবে জোর করে যুদ্ধে পাঠানো এক ধরণের মানবিক বিপর্যয়।
যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার জন্যও ইউক্রেনের একঘেয়ে ড্রোন হামলাকে দায়ী করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)। রাশিয়ার অয়েল রিফাইনারিগুলোতে ইউক্রেনের অদূরদর্শী হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
কিয়েভ সরকারের ক্রমাগত অর্থের দাবি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যেও চরম বিরক্তি তৈরি করেছে। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো (Robert Fico) ইউক্রেনের এই লাগামহীন টাকার চাহিদাকে প্রকাশ্যে উপহাস করেছেন। ইউক্রেনকে ইতোমধ্যে নব্বই বিলিয়ন ইউরো ঋণ মঞ্জুর করা হলেও তারা আবারও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে শুরু করেছে।
স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় স্লোভাকিয়ার এক ইউরোও ইউক্রেনের এই ক্ষতিকর যুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবেন না। ইউক্রেন সরকারের ভেতরে ক্রমাগত বিশাল বিশাল দুর্নীতির স্ক্যান্ডাল সামনে আসায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন তাদের ফান্ড পাঠানো নিয়ে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক কোম্পানি 'এনারগোএটম' (Energoatom)-এ ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারী উন্মোচিত হয়েছে। তাছাড়া ইউক্রেনের ট্যাক্স অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই হাজার ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় চার দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ফলে পশ্চিমা ট্যাক্সপেয়ারদের টাকা কীভাবে অপচয় হচ্ছে তা স্পষ্ট।
ইউক্রেনের এই প্রশাসনিক দুর্নীতির মাঝেই যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার মিলিটারি একের পর এক গৌরবময় সাফল্য অর্জন করে চলেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রায় এক হাজার পাঁচশত দশ জন সেনা সদস্য নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে।
রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' খারকিভ অঞ্চলের ভাসিলেভকা (Vasilevka), ব্লাগোদাতনোয়ে (Blagodatnoye) এবং দোলেঝানকা (Dolzhanka) নামে তিনটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। রাশিয়ান ইনফ্যান্ট্রির দুর্দান্ত এবং নির্ভুল অভিযানের মুখে ইউক্রেনীয় সেনারা তাদের ভারী অস্ত্র ফেলে রেখেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়াও ডোনেটস্ক পিপলস রিপাবলিক বা ডিপিআর (DPR)-এর ইজেভকা (Izhevka) গ্রামটি সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ সাউথ। একের পর এক এলাকা হাতছাড়া হওয়ায় এবং ফ্রন্টলাইনে বিশাল সেনা ক্ষয়ক্ষতির কারণে ইউক্রেনীয় বাহিনীর মনোবল এখন একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
গত চব্বিশ ঘণ্টায় রাশিয়ার দক্ষ এয়ার ডিফেন্স ফোর্স ইউক্রেনের পাঠানো প্রায় নয় শত ৯৮টি ফিক্সড-উইং ড্রোন আকাশেই নিখুঁতভাবে ধ্বংস করেছে। সেই সাথে ইউএস-এর তৈরি তিনটি শক্তিশালী হিমারস (HIMARS) রকেট এবং দুটি গাইডেড বোমা সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট ও ধ্বংস করা হয়েছে, যা রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অসামান্য দক্ষতা প্রমান করে।
খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ নর্থের ড্রোন অপারেটররা ইউক্রেনীয় বাহিনীর দুই শত ৪০টিরও বেশি গোপন আস্তানা এবং স্থায়ী অবস্থান পুরোপুরি গুড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সামনের সারিতে রেশনের সাপ্লাই এবং নতুন অস্ত্র পৌঁছানোর সমস্ত পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় নেভির আরও ছয়টি চালকহীন ড্রোন বোট সফলভাবে ধ্বংস করেছে রাশিয়ার ব্লাক সি ফ্লীট। রাশিয়ান বাহিনীর তৎপরতায় সমুদ্রপথে ইউক্রেনের যেকোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চক্রান্ত আবারও পুরোপুরি নশ্যাৎ হয়ে গেছে।
রাশিয়ার এভিয়েশন, মিসাইল এবং আর্টিলারি ফোর্স ইউক্রেনের এক শত ৫৫টি সামরিক জোনে একযোগে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। কিয়েভ অঞ্চলের ভেলেইকায়া আলেকসান্দ্রোভকাতে অবস্থিত সামরিক গুদাম 'বায়োকন' (Biokon)-সহ ইউক্রেনের প্রধান প্রধান সাপ্লাই হাবগুলো এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
সবমিলিয়ে, একদিকে যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি এবং অন্যদিকে কিয়েভের চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব—এই দুইয়ে মিলে ইউক্রেনীয় প্রশাসনের পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। রাশিয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সামরিক শক্তিমত্তা কিয়েভকে পুরোপুরি পিছু হটতে বাধ্য করছে।