ঢাকা, বুধবার, জানুয়ারী ২১, ২০২৬ | ৮ মাঘ ১৪৩২
Logo
logo

"একটু বুদ্ধি খাটান": বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাকে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরানোর নির্দেশ দিলেন ভারতের সাবেক তারকা!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:১২ পিএম

"একটু বুদ্ধি খাটান": বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাকে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরানোর নির্দেশ দিলেন ভারতের সাবেক তারকা!

ক্রীড়া ডেস্ক, নয়াদিল্লি: ভারতের টেস্ট দলে বিরাট কোহলিকে ফিরিয়ে আনার ক্রমবর্ধমান দাবির মধ্যে এবার সাবেক ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ সরাসরি বিসিসিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, শুধু কোহলি নয়, রোহিত শর্মাকেও অবিলম্বে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনা হোক। কাইফ মনে করেন, এতে শুধু ভারতের ক্লাস ও স্থিতিশীলতাই ফিরবে না, বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের যে প্রভাব আছে, সেটাও পুনরুদ্ধার হবে।

ভারতীয় ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি— রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি— বর্তমানে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন এবং তারা শুধুমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সীমিত সংখ্যক ম্যাচ খেলা সত্ত্বেও এই দুই ব্যাটার ক্রিকেটে নিজেদের সম্পূর্ণ আধিপত্য ধরে রেখেছেন।

অন্যদিকে, এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ছাড়া ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টেস্ট ক্রিকেট খেলতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। ফলস্বরূপ, সম্প্রতি ভক্তদের পাশাপাশি অনেক সাবেক তারকা ক্রিকেটারও বিরাট কোহলি কিংবা রোহিত-বিরাট দু’জনকেই অবসর ভেঙে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা সভা হতে পারে— এমন খবর নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ। তিনি বলেন, এই দুই ব্যাটার দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, তাই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনারই প্রয়োজন নেই।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কাইফ বলেন, "আমি আশা করি, তাদের (বিসিসিআই) একটু বুদ্ধি হবে এবং তারা পর্যালোচনা সভায় এই দু'জনকে টেস্টে ফিরিয়ে আনার কথা ভাববে। ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার কী আছে? দু'জনই তো সেঞ্চুরি করছে। তাদের টেস্টে ফিরিয়ে আনুন, কারণ আপনারা খুব বাজেভাবে হারছেন।"

তিনি আরও যোগ করেন, "দলে সিনিয়র ক্রিকেটার থাকা জরুরি। অবশ্যই, আমার মনে হয় না তারা দু'জন তাদের সিদ্ধান্ত বদলাবেন। তবে বিসিসিআই এটা ভাবতে পারে— যা হয়েছে হয়েছে, কিন্তু এই দু'জন কি ফিরতে পারে? এটা নিয়ে ভাবুন। বিশ্ব কাপের জন্য নতুন ছেলেদের নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবার দরকার নেই। এই দু'জনের সেখানে থাকা উচিত।"

‘কোহলি-রোহিত থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচের সাহস হতো না’
গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টেস্টের সময়, দক্ষিণ আফ্রিকা যখন সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে, তখন প্রোটিয়া কোচ শুক্রি কনরাড সাহস করে মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি স্বাগতিকদের 'মাথা নত' করতে দেখতে চান।

মোহাম্মদ কাইফ উল্লেখ করেন, দলে সিনিয়র ক্রিকেটার না থাকার কারণেই এমনটা হয়েছে। কোহলি ও রোহিত যদি দলে থাকতেন, তবে কোচের এমন মন্তব্য করার সাহস হতো না।

তিনি বলেন, "এটা স্পষ্ট যে বিরাট এবং রোহিত যদি এখনও টেস্ট খেলতেন, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ 'মাথা নত করার' (grovel) মতো মন্তব্য করতেন না। মাঠে তাদের উপস্থিতিই যথেষ্ট। যখন তারা ওয়ানডেতে ফিরেছিলেন, তখন দেখুন মাঠে কতটা শক্তি ছিল।"

কাইফ আরও বলেন, "রান করার কথা বাদ দিন, তারা পুরো দলে যে শক্তি নিয়ে আসেন— এই দু'জনের শুধু একটি ফরম্যাট খেলাটা তরুণদের জন্য ক্ষতি, কারণ তাদের কাছে শেখার অনেক কিছু আছে। তাদের কোচের বিশ্বাস ছিল যে তারা আমাদের হারাবেন, তাই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। এই দু'জন থাকলে তার এমন সাহস হতো না।"

রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি যেহেতু ভারতীয় ইনিংসকে ধরে রাখেন এবং বেশিরভাগ সময়ই ভিত গড়ে দেন, তাই মোহাম্মদ কাইফের মনে করেন— এই দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার ছাড়া ভারত ২০২৭ বিশ্বকাপ জেতার মতো যথেষ্ট সক্ষম নয়।

কাইফ বলেন, "আমরা সবাই বুঝে গেছি যে রোহিত আর বিরাটকে ছাড়া এই ভারতীয় দল ২০২৭ বিশ্বকাপ জিততে পারবে না। এটা লিখিতভাবে নিন। আমরা এ নিয়ে কথা বলছি, ভক্তরাও আমাদের এটি বলছেন। এটা কোনো গোপন বিষয় নয়। অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজে আমরা হয়তো হোয়াইটওয়াশ হতাম, কিন্তু আমরা একটি ম্যাচ জিতেছিলাম এই দু'জনের জন্যই। তারা আমাদের সেখানে বাঁচিয়েছিলেন, এবং এখানেও বাঁচিয়েছেন। তরুণরা এখানে কী করেছে? উইকেট তো ব্যাটিংয়ের জন্য ভালোই ছিল, তাই না? এখানেও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল।"

কাইফ ব্যাখ্যা করেন, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মতো খেলোয়াড়দের আলাদা করে দেয় তাদের লড়াই করে ফিরে আসার ক্ষমতা এবং একবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলে সেটাকে কাজে লাগিয়ে পুঁজি করা। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকেই এই দুই ব্যাটার এই কাজটি করেছেন।

তিনি বলেন, "অস্ট্রেলিয়ায় কোহলি ভালো ফর্মে ছিলেন না। তারপর ফাইনাল ওয়ানডেতে তিনি সময় নিয়েছিলেন। তিনি এটাই করেন। একজন বড় খেলোয়াড় সব সময় একই গতিতে খেলে না। রোহিতও সেখানে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সময় নিয়েছিলেন, কিন্তু যখন তিনি তৃতীয়টিতে সেঞ্চুরি করেন, তখন দ্রুত খেলেছিলেন। বিরাটও একই কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় একবার রান পেয়ে যাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে, এবং আপনি এখানে একটি দ্রুত ও আক্রমণাত্মক নক দেখেছেন।"