ভারতীয় ক্রিকেটের সুপারস্টার বিরাট কোহলি নতুন এক বিতর্কের কেন্দ্রে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, ৩০ নভেম্বর রানচিতে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের পর তিনি সাউথ আফ্রিকার প্রধান কোচ শুকরি কনরাডের সাথে করমর্দন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

বিরাট কোহলি সেই ম্যাচে ১৩৫ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলে ভারতকে শেষ ওভারে ১৭ রানে জয় এনে দেন। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি ৩ ডিসেম্বর রায়পুরে হওয়ার কথা।

ওয়ানডের পর কোহলি করলেন 'ইগনোর'

রানচি ওয়ানডে শেষ হওয়ার পর ক্যামেরা ধরে ফেলে সাবেক এই ভারতীয় অধিনায়কের বেশ কিছু মুহূর্ত, যার একটি হলো শুকরি কনরাডকে উপেক্ষা করা।

ভারতীয় দল যখন সিঁড়ি বেয়ে উঠছিল এবং সাউথ আফ্রিকার খেলোয়ারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিল, তখন কোহলি পুরোপুরিভাবে কোচ কনরাডকে এড়িয়ে যান বলে দেখা যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কোহলি হ্যান্ডশেক, মাথা নেড়ে সম্মতি কিংবা কোনোরকম স্বীকৃতি ছাড়াই কনরাডের পাশ কাটিয়ে সোজা চলে যাচ্ছেন, যেন সাউথ আফ্রিকার কোচ সেখানে ছিলেনই না। কিন্তু এরপরেই লাইনে থাকা পরের সাউথ আফ্রিকান খেলোয়াড়দের সাথে তিনি হ্যান্ডশেক করেন।

ভিডিওটি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এটি স্পষ্ট নয় যে, ক্যামেরা ধরে ফেলার আগেই কোহলি কনরাডকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন কিনা।

কনরাডের 'Grovel' মন্তব্যের জের

এই ঘটনাটি ঘটেছে এরকম এক সময়ে, যখন টেস্ট সিরিজে ভারতকে সাদা ধোলাই দেওয়ার পর কনরাডের একটি বিতর্কিত মন্তব্য তোলপাড় তুলেছিল।

গুয়াহাটি টেস্টে সাউথ আফ্রিকার দাপুটে জয়ের পর কনরাড স্বীকার করেন যে, তার দল ইচ্ছাকৃতভাবেই ধীর গতিতে ব্যাট করেছে যাতে ভারতীয় খেলোয়ারদের 'সত্যিকারের grovel' (হাঁটু গেড়ে বসতে/বিনীত হতে) বাধ্য করা যায়।

'Grovel' শব্দটি সঙ্গে সঙ্গে চোখ কপালে তোলে, কারণ ক্রিকেটের ইতিহাসে এই শব্দটির একটি নেতিবাচক ও বিতর্কিত অতীত রয়েছে। ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ড অধিনায়ক টনি গ্রেগ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অপমান করতে গিয়েই এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

বিরাট-রোহিত নিয়ে আবারও প্রশ্ন বিসিসিআই'র উপর

এদিকে, কিভাবে তারা তাদের সিনিয়র তারকা রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির সাথে আচরণ করছে, তা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট আবারও আলোচনায়। বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন সিলেক্টরদের ধারণা, বিশেষ করে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেওয়ার পর এই দুই কিংবদন্তিকে প্রতি সিরিজেই 'ট্রায়াল'-এর মুখোমুখি করা বন্ধ করার সময় এসেছে।

এই আলোচনা আসে এমন এক সময়ে, যখন ভারতীয় দল ২০২৭ সালের আইসিসি বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকায় হওয়ার কথা এবং যেখানে ব্যাটিং কন্ডিশন চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ওয়ানডে অধিনায়কত্ব রোহিতের কাছ থেকে শুভমান গিলের কাছে হস্তান্তর একটি প্রাকৃতিক ধাপ মনে হলেও, যেভাবে এটি সামালানো হয়েছে তা মসৃণ মনে হয়নি।

ওয়ানডে ড্রেসিংরুমে চাপা উত্তেজনা

রোহিত ও কোহলি আরও দুই বছর ফর্ম ও ফিটনেস ধরে রাখতে পারবেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েই গেছে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য প্রশংসার বদলে, ওয়ানডে সিরিজ শুরু হলেই এই দুই খেলোয়াড়কেই প্রায়শই যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়।

বিসিসিআই'র অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, সমস্যার একটি অংশ হলো ওয়ানডে ড্রেসিংরুমে 'বিরোধী সংস্কৃতি'। ভারতীয় প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ওয়ানডেতে টি-টোয়েন্টি ও টেস্টের তুলনায় কম সক্রিয় বলে জানা গেছে— যেসব ফরম্যাট থেকে রোহিত ও কোহলি অবসর নিয়েছেন। এই পার্থক্যই সিনিয়র খেলোয়াড় ও দল পরিচালনার মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

 

news