গত বছর এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে টসের পর ইচ্ছে করেই ‘হ্যান্ডশেক’ করেননি ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। সেই ঘটনাই আবারও সামনে চলে এসেছে।
খেলা শেষে নিয়ম অনুযায়ী ‘হ্যান্ডশেক’ করার জন্য পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা মাঠে অপেক্ষা করলেও গৌতম গম্ভীর-এর শিষ্যরা ড্রেসিংরুমে ফিরে দরজা বন্ধ করে বসে থাকেন—এমন অভিযোগ ওঠে।
শুধু এখানেই শেষ নয়। টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে আয়োজক সংস্থা Asian Cricket Council (এসিসি)-এর সভাপতির হাত থেকেই ট্রফি নেওয়ার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু এসিসি সভাপতি পাকিস্তানি হওয়ায় মহসিন নকভি-র হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারতীয় দল।
ফলে দীর্ঘ সময় মাঠে দাঁড়িয়ে থেকে ট্রফি নিয়ে হোটেলে ফিরতে হয় এসিসি সভাপতি মহসিন নকভিকে। পরে ট্রফি ফিরে পেতে বহু দেন-দরবার করে Board of Control for Cricket in India (বিসিসিআই)। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। আজও পর্যন্ত এশিয়া কাপের ট্রফি হাতে পায়নি ভারত।
জানা গেছে, এসিসির নতুন সভাপতি না আসা পর্যন্ত ট্রফি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ মহসিন নকভি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ভারত যদি ট্রফি নিতে চায়, তাহলে তার হাত থেকেই নিতে হবে।
এর মধ্যেই আবার আলোচনায় সেই ‘হ্যান্ডশেক’ বিতর্ক। কারণ আগামীকাল রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান।
শনিবার শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ‘হ্যান্ডশেক’ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সূর্যকুমার যাদব রহস্যময় ভঙ্গিতে বলেন,
“২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। ভালোভাবে খাওয়াদাওয়া করুন, ভালোভাবে ঘুমান, আমরা আগামীকালই দেখব।”
একই প্রশ্ন বারবার উঠতে থাকায় খানিকটা বিরক্তিও ঝরে পড়ে তার কণ্ঠে। তিনি বলেন,“রহস্যটা আগামীকালই ভাঙা যাক। আমি তো এইমাত্র এটা নিয়ে বললাম। কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আপনারাই বলুন। খেলাটাই আসল। আগে ম্যাচটা খেলি। টসের সময় হ্যান্ডশেক হবে কি হবে না, সেটা আমরা আগামীকাল দেখব। শুধু ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।”
অন্যদিকে, পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা-কে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি শান্ত সুরে বলেন,“ভারত কী করতে চায়, তার পুরোটাই তাদের ওপর নির্ভর করছে। আমরা আগামীকালই সেটা দেখতে পাব।”
সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভারত-পাক দ্বৈরথ। এখন দেখার—টসের সময় করমর্দন হবে, নাকি নতুন করে শুরু হবে আরেক বিতর্ক?
