তথ্যপ্রযুক্তিতে বেড়েছে দেশের নারীর অংশগ্রহণ, অভিমত বিশেষজ্ঞদের
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে তাদের অবদানও। এ খাতের নেতৃবৃন্দ জানান, নারীরা গ্রাফিক্স, কল সেন্টারের কাজ পেরিয়ে এখন প্রোগ্রামিং, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংসেও (আইওটি) অংশগ্রহণ করছেন। এমনকি বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগেও একাধিক নারী কাজ করছেন।
উইমেন এন্ড ই-কমার্সের সভাপতি নাছিমা আক্তার নিশা জানান, তাদের সংগঠনে চলতি মাস পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দ লাখ পঞ্চাশ হাজার ক্ষুদ্র নারী উদ্যোগক্তা যুক্ত হয়েছেন। বড় ও ছোট মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রায় পাঁচ লাখ নারী উদ্যোগক্তা রয়েছেন। শুধু তাই নয়, বড় বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মোট কর্মীর প্রায় ৪০ শতাংশ নারী কর্মী রয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশান অফ কনট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম জানান, কল সেন্টারে কয়েক বছর আগেই ১/২ জন নারী কাজ করতেন। এখন এর সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণে।
উইমেন ইন ডিজিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আছিয়া নীলা বলেন, এখন নারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, ডেটা সায়েন্সসহ হাইটেকও কাজ করছেন।
আইসিটি খাতে মেয়েদের এগিয়ে আসার প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিওএসএন)। তাদের তথ্যমতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সায়েন্স অথবা তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিষয়সমূহ নিয়ে পড়ছেন প্রায় ২৫ শতাংশ মেয়ে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৫ শতাংশ ছাত্রীর মধ্যে পড়ালেখা শেষে ১৩ শতাংশ আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠানটি নারীদের উৎসাহী করতে দুটি প্রকল্প হাতে নেয়। এর একটি হচ্ছে ‘গার্লস ইন আইসিটি’ এবং ‘মিসিং ডটার’ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গণিতে মেয়েদের অংশগ্রহণের সংখ্যা বাড়ানো।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ডিভিশনের অধীনস্থ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) উদ্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার নারীকে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রশিক্ষিত ২০ হাজার নারীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এনবিএস/ওডে/সি