ভারতের ডেটা সেন্টার শিল্পের দ্রুত প্রসারের জন্য প্রয়োজন ৩০ গুণ অধিক বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ, যা বর্তমানে দেশের প্রস্তুতিতে বড় ফাঁক রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, প্রযুক্তি বিশ্লেষক নীল শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের শহরগুলোতে ডেটা সেন্টারের বিস্তারের কারণে বিদ্যুৎ ও জলের ঘাটতি প্রকট হতে পারে যদি দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হয়।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫০টি ডেটা সেন্টার কার্যকর রয়েছে এবং আরও ১০০টির বেশি নির্মাণাধীন। এটির প্রধান কারণ দেশজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড প্রযুক্তির ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। তবে ডেটা সেন্টারগুলো প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ ও জল ব্যবহার করে থাকে, যা ভারতের বড় শহর যেমন নাভি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, নয়ডা, ও জামনগরে সীমিত সম্পদ।

২০২০ সালে ভারতের ডেটা সেন্টারগুলো প্রায় ৩৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছিল, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ১,৫০০ মেগাওয়াটে। আর ২০৩২ সালের মধ্যে এই পরিমাণ ১৩.৫৬ গিগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা মাত্র এক দশকের মধ্যে প্রায় ৩০ গুণ বৃদ্ধি। বিদ্যুৎ ছাড়াও, একটি মাত্র ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টার শীতলীকরণের জন্য প্রায় ২৬ মিলিয়ন লিটার জল প্রয়োজন, এবং বৃহত্তর কেন্দ্রে এই পরিমাণ আরও বেশি।

বিশ্লেষক নীল শাহের মতে, মুম্বাই শহরেই ২৮টি নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণাধীন এবং সেখানকার মোট বিদ্যুৎ খরচের এক তৃতীয়াংশ ডেটা সেন্টার ব্যবহার করবে। তিনি আরও বলেন, এই ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য আলাদা বিদ্যুৎ গ্রিড এবং সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক। শুধু বিদ্যুৎ নয়, জল পুনর্ব্যবহার ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

শাহ উল্লেখ করেন, রিলায়েন্স জিওর জামনগর ডেটা সেন্টার একটি আদর্শ উদাহরণ, যেখানে ৫০-৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে হবে এবং জল পুনর্ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি নিয়মিত এনার্জি অডিট এবং ডেটা সেন্টার বিদ্যুৎ ও জল ব্যবহারের জন্য পৃথক বিলিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার অব্যাহত থাকায় ডেটা সেন্টারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তবে এই অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণে যদি যথাযথ পরিকল্পনা ও রিসোর্স ব্যবস্থাপনা না করা হয়, তাহলে দেশের বড় শহরগুলোর বিদ্যুৎ ও জল সংকট আরও তীব্র হবে। পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি ও জল পুনর্ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই সংকট মোকাবিলায় সঠিক নীতি গ্রহণ না করলে দেশীয় প্রযুক্তি খাত ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখনই পরিকল্পিত ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।

Walton Ads