পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে হতাশার সুর, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানো নিয়ে শঙ্কা
তুন ফসিল ফুয়েল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক জ্বালানির সংস্থা বা আইইএ’র নির্দেশিকা মানার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেছেন, রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলিকে নতুন তেল ও গ্যাস উন্নয়নের অনুমোদন বন্ধ করতে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা বাস্তব সম্মত নয়।
ব্রাজিলের পেট্রোব্রাস এবং অ্যাঙ্গোলার সোনাঙ্গোলের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) দ্বারা নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুসরণ করার কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে।যা বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং সীমিত করতে হলে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি উন্নয়নে বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই বলে ২০২১ সালের মে মাসে প্রকাশিত রিপোর্টে এ সুপারিশ করা হয়েছিল।
এতে আরো বলা হয়েছে যে, সরকারগুলির বর্তমান জলবায়ু প্রতিশ্রুতি অর্জিত হলেও, পৃথিবী এখনও ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনকে শূন্যের কোঠায় আনতে ব্যর্থ হবে।
মঙ্গলবার কানাডার আলবার্টার ক্যালগারিতে ২৪তম বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রেখে, উভয় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোব্রাস এবং সোনাঙ্গোল প্যারিস-ভিত্তিক সংস্থার নির্দেশিকাকে ‘না’ বলেছে।
তারা বলেছেন, প্রত্যেক দেশের জন্য শক্তির রূপান্তর অবশ্যই আলাদা পর্যায় থেকে হতে হবে। যে দেশগুলি ব্রাজিল, গায়ানা এবং সুরিনামের মতো নতুন তেল সীমান্ত খুলছে তাদের জন্য এটি একটি ভিন্ন পরিস্থিতি।
পেট্রোব্রাস ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন পরিচালক কার্লোস ট্রাভাসোস আরো বলেছেন, সুতরাং স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, আমরা অর্থনৈতিক দিকগুলির কারণে নয়, মূলত সামাজিক দিকগুলির কারণে আইইএ থেকে এ ধরণের নির্দেশনা অনুসরণ করতে চাই না।
ট্রাভাসোস আরও বলেছেন যে, প্রতিটি দেশের জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য নিজস্ব পথ রয়েছে এবং ব্রাজিল তার গভীর-জলের সম্পদের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। পেট্রোব্রাস বর্তমানে বিশ্বের সমস্ত ভাসমান উৎপাদন, স্টোরেজ এবং অফলোডিং জাহাজের অর্ধেক সম্পাদন করে থাকে।
একই প্রশ্ন করা হয়েছিল সোনাঙ্গোল আইইএ রিপোর্টের সুপারিশ অনুসরণ করবে কিনা এর জবাবে সোনাঙ্গোল বোর্ডের সদস্য অসভালদো ইনাসিও পরিস্কারভাবে ‘না’ বলে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, যদি আমরা অতিরিক্ত আপস্ট্রিম প্রকল্প বা ক্রিয়াকলাপগুলিকে অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করি, এর অর্থ আক্ষরিক অর্থে আমাদের শোধনাগারগুলির মধ্য দিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কাছে কোনও তেল থাকবে না। সুতরাং বিনিয়োগ ও উৎপাদন থামানো মানে আত্মহত্যার শামিল।
অ্যাঙ্গোলা বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে তবে তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য আমদানির উপর নির্ভর করে।
ইনাসিও বলেন, সোনাঙ্গলের প্রধান অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে একটি হল এর পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানো। তিনি বলেন, সোনাঙ্গোল ‘অবশ্যই’ স্বীকার করে বাকি বিশ্বের মতো নির্গমন হ্রাস এবং তেল উৎপাদনকে ডিকার্বোনাইজ করা তাদের কাছে সমান গুরপূর্ণ।
আমরা স্পষ্টতই একই চিন্তা করি কিন্তু এমনভাবে যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশেষ করে শিল্পায়ন বন্ধ করে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়।
পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসের তৃতীয় দিনেও ৪টি প্লেনারি সেশনে বিভিন্ন দেশ তাদের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, কুয়েত,সৌদি আরব ফসিল ফুয়েল উৎপাদন ও ব্যবহারে কিভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানো যায় সেই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি
