ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না—এই প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্ব্যর্থমূলক উত্তর দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। “আমি করতে পারি, আবার নাও করতে পারি”—হোয়াইট হাউস লনে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার ইচ্ছাধীন। তবে যুদ্ধবিরোধী আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকার বিষয়টি মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
মার্কিন সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কেবল কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হিসেবে জরুরি প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের নির্দেশ দিতে পারেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন আবশ্যক।
১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পাস হয় ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট কোনো সামরিক অভিযান শুরু করলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে সেই অভিযান বন্ধ করতে হবে।
কিন্তু বাস্তবে এই আইন অনেক সময়ই অকার্যকর হয়ে পড়ে। অতীতে অনেক প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। ২০০১ ও ২০০২ সালে গৃহীত ‘এইউএমএফ’ আইনের আওতায় ট্রাম্পসহ বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট অন্তত ১৯টি দেশে সামরিক অভিযান চালিয়েছেন।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানে হামলার বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তেই এগোতে পারেন—এমন শঙ্কায় কংগ্রেসে বেশ কয়েকটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। তবে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে এসব বিল পাসের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে ট্রাম্প ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নিলে সংবিধান থাকলেও তাকে থামানোর আইনগত পথটি এখন বেশ দুরূহ।