রাশিয়া বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প কেন্দ্র এবং ব্ল্যাক সি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই বিমান হামলা কিয়েভের ড্রোন উৎপাদন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং ওডেসা ও ইউজনি বন্দরের সামরিক কার্গো ও জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামোকে টার্গেট করে পরিচালিত হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানা যায়, কিয়েভে র্যাপিড পিজেএসসি নামে একটি লজিস্টিক কোম্পানির শিল্প এলাকা এবং কিয়েভ-১ রেডিও-ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠানের ড্রোন স্টোরেজ সুবিধা আক্রমণের মুখে পড়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ ও মধ্যম দূরত্বের বিস্তৃত ফ্লাইটের ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করে থাকে।
পূর্ববর্তী কয়েক সপ্তাহে রাশিয়া দীর্ঘ পরিসরের হামলায় ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প ও লজিস্টিক অবকাঠামোর উপর জোর দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ওডেসা ও ইউজনি বন্দরে পাঁচটি জ্বালানি ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে, যা ইউক্রেনি সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হত।
একইসঙ্গে, ব্ল্যাক সি-র স্নেক দ্বীপের কাছে একটি উচ্চগতির ইউক্রেনি স্পেশাল ফোর্সেস বোট এবং চর্নোমোর্স্ক বন্দরের পথে একটি সামরিক সরবরাহ বহনকারী কার্গো জাহাজকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ৩৭৫টি ফিক্সড-উইং ড্রোন ধ্বংস করেছে, যা রাশিয়ার ১৮টি অঞ্চলে পড়েছিল। এর আগে, জাপোরোজজি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউক্রেনি ড্রোন হামলায় একজন প্রধান প্রকৌশলী ও চালক নিহত হয়।
রাশিয়া এই হামলাগুলোকে নিজেদের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর উপর ইউক্রেনি সন্ত্রাসী আক্রমণের জবাব হিসেবে উল্লেখ করছে, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রের অবনতি ও ইউক্রেনের ড্রোন হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই হামলা ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা ও সরবরাহশৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে। রাশিয়ার এই ধরনের নিশানা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা ব্ল্যাক সি অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বকেও তুলে ধরে। একই সঙ্গে, পারমাণবিক সুবিধায় হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রতিক্রিয়া এই সংঘাতের জটিলতা ও মানবিক সংকটের গুরুত্ব প্রমাণ করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা আরও তীব্র হলে, ইউক্রেন ও সমগ্র ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হতে পারে।