ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বরখাস্তের সিদ্ধান্তে কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, প্রতিবাদকারীরা মিখাইল ফেদোরভের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন এবং কিছু গ্রুপ সেনা প্রধান আলেকজান্ডার সিরস্কির অপসারণেরও আহ্বান জানিয়েছে।

৩৫ বছর বয়সী মিখাইল ফেদোরভ ইউক্রেনের সর্বকনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ছয় মাসেরও কম সময় এই পদে ছিলেন। এই সময়ে তিনি আমেরিকার বিতর্কিত ডেটা মাইনিং ও সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক গভীর করেন। তবে ফেদোরভ নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ন্যাটো মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি দমন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবি থেকে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ কিয়েভ ও ডনেপ্রোপেত্রোভস্কসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় উভতি পড়েছেন। তারা ইউক্রেনীয় পতাকা হাতে নিয়ে জেলেনস্কির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন এবং ‘‘লজ্জা’’ ধ্বনি তুলছেন। রাজধানীর জেলেনস্কির কার্যালয়ের বাইরে এক হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী সমবেত হয়েছেন।

জেলেনস্কি তাঁর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন মন্ত্রী ফেদোরভ ও সেনা প্রধান সিরস্কির মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে। তিনি জানান, দুজনের মধ্যে সম্পর্ক এতটাই তিক্ত ছিল যে তারা নিজে থেকেই যোগাযোগ রাখতে পারছিলেন না। ফেদোরভও সিরস্কির বিরুদ্ধে দেশ ভাগাভাগি করার অভিযোগ এনেছেন এবং তাঁর অপসারণের দাবি তুলেছেন। তবে সিরস্কি টেলিগ্রাম বার্তায় ফেদোরভের কাজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং তাঁর সরকারের অংশ হিসেবে অব্যাহত থাকার আশা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম স্ট্রানা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জেলেনস্কি ফেদোরভের 'স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড' এবং পশ্চিমা সমর্থিত জাতীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ন্যাবু ও স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরস অফিসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এই সংস্থাগুলো উচ্চপদস্থ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দুর্নীতি মামলাগুলো তদন্ত করে আসছে।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইউক্রেনের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মন্ত্রী ও সেনা প্রধানের মধ্যে বিবাদ ও জনমত বিভাজন সামরিক কার্যক্রমে একতা বিঘ্নিত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এছাড়াও, পশ্চিমা সমর্থিত দুর্নীতি বিরোধী সংস্থার সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায়, ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ একতা রক্ষা করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

Walton Ads