বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র কয়েক দিন আগে কানাডার বনদাহ থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে তার বনসম্পদ যথাযথভাবে রক্ষা না করার অভিযুক্ত করে অভিযোগ করেন যে, জলবায়ু দূষণ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে যা 'অস্বাস্থ্যকর এবং দূষিত বায়ু' সৃষ্টি করেছে। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, এই অবহেলা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য 'বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি' করছে এবং কানাডাকে ইতিমধ্যেই আরোপিত শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির আগে, কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের প্রধান দগ ফোর্ড মার্কিন রাজনীতিবিদদের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘‘আপনারা অভিযোগ করার বদলে সাহায্য পাঠান।’’ কানাডায় গ্রীষ্মের শেষ দিকে শুরু হওয়া বনদাহের আগুনগুলি বিশেষত উত্তরে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এর ধোঁয়া নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার থেকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে বায়ুর মান সূচক ২০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পর্যায় নির্দেশ করে।
নিউ ইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড এবং উত্তর নিউ জার্সির বিভিন্ন অংশে বায়ু দূষণজনিত সতর্কতা জারি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শিশু ও হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টে ভুগমানদের বাড়ির ভিতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা বাইরে যাবেন তারা এন৯৫ বা কে এন৯৫ মাস্ক পরিধান করুন, বলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি এমন সময়ে ঘটেছে যখন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রায় ৮০,০০০ দর্শক উপস্থিত থাকার কথা। ফিফা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিবেশ পরিস্থিতি মনিটর করছেন, তবে ESPN সূত্রে জানা গেছে যে এখন পর্যন্ত খেলা স্থগিত বা বাতিলের কোনো হুমকি নেই। আবহাওয়া পরিবর্তনের মাধ্যমে বায়ু মান উন্নত হতে পারে, তবে বৃষ্টি পরবর্তী ধোঁয়ার পুনরায় আগমনও সম্ভব বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ঘটনা বিশ্বকাপের মত একটি বিশাল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, যা গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে। বায়ু দূষণ এবং বনদাহের কারণে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া, দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে যখন বাণিজ্য ও পরিবেশ সংক্রান্ত ইস্যু জড়িত থাকে।