রাশিয়া ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন আইএসএসে নতুন ক্রু নিয়ে সয়ুজ মহাকাশযান পাঠিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, রাশিয়ার বায়কোনুর মহাকাশ কেন্দ্রে সয়ুজ-২.১এ রকেট ১৭:৪৮ মস্কো সময়ে উৎক্ষেপণ করে আইএসএসে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
এই মহাকাশযানের মাধ্যমে রাশিয়ার দুই নভোচারী পিয়েতর দুব্রোভ ও আন্না কিকিনা এবং মার্কিন নভোচারী অনিল মেনন আইএসএসে পৌঁছানোর জন্য যান। সয়ুজ এমএস-২৬ স্পেসক্রাফটটি ২০:৫৬ মস্কো সময়ে আইএসএসে ডক করার কথা রয়েছে।
নতুন ক্রুটি ২৬১ দিন আইএসএসে অবস্থান করবে এবং এই সময়ে তারা ৩৮টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করবে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত স্বয়ংক্রিয় বায়ুমণ্ডল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং একটি মানবসদৃশ রোবটের পরীক্ষা। এই রোবটটি নভোচারীর 'অবতার' হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হবে, যা ভবিষ্যতে মহাকাশচর্যায় মানুষের বিকল্প হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুব্রোভ ও কিকিনা দুজনের জন্য এটি আইএসএস-এ দ্বিতীয়বারের যাত্রা, যেখানে অনিল মেনন প্রথমবারের মতো মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন। দুব্রোভ পূর্বে ৩৫৫ দিন আইএসএসে কাটিয়েছেন এবং চারটি মহাকাশচর্যা সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি মহাকাশে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'ভাইজোভ' ('চ্যালেঞ্জ') নির্মাণে অংশ নিয়েছিলেন।
অনিল মেননের এই যাত্রা মার্কিন ও রাশিয়ার মধ্যে ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত ক্রস-ফ্লাইট চুক্তির আওতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দুই দেশের নভোচারীদের একে অপরের মহাকাশযানে ভ্রমণের অনুমতি দেয়। ২০২২ সালে কিকিনা স্পেসএক্সের 'এন্ডিওরেন্স' ক্যাপসুলে আইএসএসে গিয়ে প্রথম রাশিয়ান নভোচারী হিসেবে মার্কিন মহাকাশযান ব্যবহার করেন।
১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ান নভোচারীরা মার্কিন স্পেস শাটল প্রোগ্রামের মাধ্যমে মহাকাশে গিয়েছিলেন, যেখানে শাটল-মির প্রোগ্রামের মাধ্যমে মার্কিন নভোচারীরা মির স্টেশন পরিদর্শন করতেন। ২০১১ সালে স্পেস শাটল প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়ার পর থেকে ২০২০ সালের আগ পর্যন্ত নভোচারীদের আইএসএসে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব রসকসমসের ওপর ছিল।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই মিশনটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে, যেখানে রোবট প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবসদৃশ সহায়তা প্রদান ও নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি, মার্কিন-রাশিয়ার মহাকাশ সহযোগিতা ভবিষ্যত মহাকাশ অভিযানে স্থিতিশীলতা ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময় নিশ্চিত করবে। আইএসএসে গবেষণাগুলো সৌর শক্তির আচরণ বোঝা এবং মহাকাশ পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।