রাশিয়ার সামরিক বাহিনী নতুন করে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ও সামরিক জাহাজগুলোতে এআই প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালিয়েছে, যা কিয়েভের সামরিক সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পরিকল্পিত।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি কৃষ্ণসাগরের বিভিন্ন বন্দর ও জলপথে ইউক্রেনীয় সামরিক সরবরাহ বহনকারী মালবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযানগুলোতে এআই-চালিত 'সিকার' ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও আঘাত হানতে সক্ষম।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী সম্প্রতি চেরনোমোরস্ক এবং ওডেসা অঞ্চলের বন্দরগুলোতে মালবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জেরান-৪ এবং গেরবেরা ড্রোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহর লক্ষ্য করে আঘাত হানছে। বিশেষ করে, জেরান-৪ ড্রোনগুলোতে ব্যবহৃত এআই-ভিত্তিক মেশিন ভিশন সিস্টেমের কারণে মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস সম্ভব হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার সাম্প্রতিক এই আক্রমণগুলো ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এর ফলে কৃষ্ণসাগরের জলপথে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা সামগ্রিক যুদ্ধ কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

রাশিয়ার এআই-সহায়িত ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ঘটনা সামরিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধ কৌশলে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় ও দূরবর্তী যুদ্ধপ্রযুক্তির গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং সামরিক সংঘাতের চিত্রকে পরিবর্তন করতে পারে। তাছাড়া, কৃষ্ণসাগরের এই ধরনের আঘাত ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার যুদ্ধের নৈতিকতা, নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেও নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করবে।

Walton Ads