সপ্তাহের শুরুতেই যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন অ্যান্ডি বার্নহাম, যিনি তার পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের জটিল সমস্যা মোকাবেলা করবেন। সোমবার বাকিংহাম প্যালেসে কিং চার্লস তৃতীয়র সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেন বার্নহাম। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, লেবার পার্টির ৪০১ সদস্যের মধ্যে ৩৪৯ জনের প্রাধান্যে পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বার্নহাম, যিনি একক প্রার্থী হওয়ায় নেতৃত্ব গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ ছিল।

কিয়ার স্টারমারের দুই বছরের দুঃসাহসিক শাসনামলের অবসান ঘটিয়ে বার্নহামের ক্ষমতায় আগমন ঘটেছে, যিনি গত মাসে পদত্যাগ ঘোষণা করেছিলেন। স্টারমারের সরকারের জনপ্রিয়তা ক্রমাগত পতনের পাশাপাশি নানা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক জটিলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ সাধারণ নির্বাচনের কারণ হয় না, বরং শাসক দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্ধারণ করা হয়। গত দশকে ছয়জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে চারজনই এই পদ্ধতিতে ক্ষমতায় এসেছেন।

স্টারমারের পতনের পেছনে ছিল ব্যাপক সমালোচনা এবং পার্টির নির্বাচনী দুর্বলতা। দুই বছর আগে লেবার পার্টির বিপুল নির্বাচনী জয়ের পরেও তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কল্যাণ ব্যবস্থা সংকট এবং প্রতিরক্ষা বাজেট ঘাটতির মতো সমস্যা মেটাতে পারেননি। এছাড়া, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সমর্থনে লন্ডনের অবস্থানও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

স্টারমার সরকারের সময় একটি বড় রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ছিল প্রাক্তন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্তির ঘটনা, যিনি অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের সাথে সম্পর্কের কারণে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এই কেলেঙ্কারির কারণে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং স্টারমারের শীর্ষস্থানীয় কর্মীদের মাঝে ব্যাপক ছাড়াছাড়ি ঘটে।

অ্যান্ডি বার্নহাম, যিনি মূলত গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র হিসেবে পরিচিত, ২০০০ দশকে টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রিসভা পদে ছিলেন। তিনি নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্রিটেনের জন্য 'আশার যুগ' ঘোষণা করেছেন।

তবে বার্নহামের সামনে এখনো রয়েছে অর্থনীতি, সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের ঘাটতির কঠিন চ্যালেঞ্জ। তিনি ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার্নহামের উত্তর সাগরে তেল অনুসন্ধান শুরু করার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তন শুধুমাত্র পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং দেশের গৃহীত নীতিমালার ওপরও প্রভাব ফেলবে। বার্নহামের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের বিদেশ নীতি, বিশেষত ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক, এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কার কেমন হবে তা বিশ্বজুড়ে নজর রাখছে। এছাড়া, দেশটির সামাজিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন বার্নহামের সাফল্যের মানদণ্ড হয়ে উঠবে।

Walton Ads