কানাডা ইবোলা মহামারির কারণে গত ২১ দিনে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) সফরকারী সকল বিদেশি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত সোমবার রাত ১১:৫৯ থেকে কার্যকর হবে, যা দেশটির পাবলিক হেলথ এজেন্সি অব কানাডা (PHAC) ঘোষণা করেছে।

কানাডা সরকার বলেছে, যারা সম্প্রতি ডিআর কঙ্গোতে ছিলেন, তাদের বিমানবন্দর থেকে উঠতে বাধা দেওয়া হবে। তবে কানাডিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ২১ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যারা ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা বা সাউথ সুডান থেকে ফিরে আসবেন।

২০২৩ সালের মে মাসে কানাডা ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় বুন্ডিবুগিয়ো ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এই তিন দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন নথি গ্রহণ স্থগিত করেছিল। PHAC জানিয়েছে, এই প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চালু থাকবে, যদিও দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস থেকে কানাডিয়ানদের ঝুঁকি কম বলে মনে করছে এবং দেশে এখনও কোনো সংক্রামিত রোগী পাওয়া যায়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই ধরনের সীমাবদ্ধতা ছড়িয়ে পড়া সঙ্কটের মাঝে সামাজিক কলঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে। WHO বলেছে, ইবোলা সংক্রমণ জাতীয়তা বা বর্ণের ওপর নির্ভর করে না, এবং কলঙ্কের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হন না, যা মহামারী নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে।

ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত সেখানে ২,৩৪৪ জন নিশ্চিতভাবে সংক্রমিত এবং কমপক্ষে ৯৩০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। উগান্ডায় ২০ জন আক্রান্ত ও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং তারা সম্প্রতি শেষ রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়েছে, যা মহামারী সমাপ্তির ৪২ দিনের গণনা শুরু করে।

ইবোলা ভাইরাস বুন্ডিবুগিয়ো প্রজাতির জন্য নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা নেই। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি তাদের ChAdOx1 BDBV ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা ও ইমিউন প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রও ডিআর কঙ্গো থেকে আসা তাদের নাগরিকদের সরাসরি দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং অন্য কোনো দেশে ২১ দিন থাকার নির্দেশ দিয়েছে, যা মহামারী নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে বলে জানানো হয়েছে।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

কানাডার এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ইবোলা মহামারী মোকাবেলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। যদিও WHO এর সতর্কতা সত্ত্বেও দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষার জন্য সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। সামাজিক কলঙ্ক প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বয় করার গুরুত্ব এই সংকট থেকে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে মহামারী নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই সফলতার চাবিকাঠি হতে পারে।

Walton Ads