আকাশে আগুনের গোলক ভেসে উঠতেই কিয়েভের চারপাশে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার রাতে রাশিয়ান মিলিটারির চালানো নির্ভুল মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। ইউক্রেনের দূরপাল্লার ফ্লেমিংগো (Flamingo) ক্রুজ মিসাইলের যন্ত্রাংশ রাখা প্রধান গুদামটি এক আঘাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে কিয়েভের শহরতলী চাইকিতে (Chaiky) অবস্থিত ফিম সার্ভিস (Fim Service) লজিস্টিক সেন্টারে এই আঘাত হানা হয়। ঘটনার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শত শত মিটার উঁচুতে আগুনের গোলা উড়তে দেখা যায়। দ্বিতীয় দফায় হওয়া এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে স্পষ্ট হয় যে সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত ছিল। এই হামলা কিয়েভ বাহিনীর দূরপাল্লার আক্রমণের সক্ষমতাকে পুরোপুরি অচল করে দিয়েছে।

ক্যালিনোভকা (Kalinovka) এলাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেন্টারেও সফল স্ট্রাইক চালিয়েছে রাশিয়ান বাহিনী। এই কেন্দ্রটি মূলত পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আসা সামোরিক চালান বিতরণের জন্য কাস্টমস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ফলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি পশ্চিমাদের পাঠানো ভারী সামোরিক সরঞ্জামের পুরো সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে। রাশিয়া তাদের প্রতিটি হামলায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ইউক্রেনের সামোরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

হামলার পরিধি শুধু ক্ষেপণাস্ত্র গুদামেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মিলেয়া (Milaya) এলাকায় ফায়ার পয়েন্ট (Fire Point) পরিচালিত একটি বড় গোলাবারুদের গুদামেও আঘাত হানা হয়েছে। যেখানে এফপি এক (FP-1) এবং এফপি দুই (FP-2) নামের দূরপাল্লার ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও লঞ্চ বুস্টার রাখা ছিল। রাশিয়ার এই বিধ্বংসী আক্রমণের পর ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার পরিকল্পনা পুরোপুরি বানচাল হয়ে গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলের ইজমাইল (Izmail) বন্দরে থাকা জ্বালানি ট্যাঙ্কার পার্কিং এলাকাতেও রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল সফলভাবে আঘাত হেনেছে। যা সরাসরি কিয়েভ মিলিটারির জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ফলে সামনের সারিতে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের সামোরিক যানবাহনের জন্য জ্বালানি সংকট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কৌশলগত এই পয়েন্টটি হারিয়ে ইউক্রেন বাহিনী এখন চরম বিপাকে।

নিকোলায়েভ (Nikolayev) সমুদ্রবন্দরেও রাশিয়ার তোপ থেকে রক্ষা পায়নি ইউক্রেনের সামোরিক অবকাঠামো। সেখানে একটি মেরিটাইম টার্মিনাল এবং আঠারোটি লজিস্টিক সেন্টারে একযোগে হামলা চালানো হয়। যার মাধ্যমে পশ্চিমা অস্ত্র খালাস ও মজুত করার সব সুবিধা পুরোপুরি অচল করে দেওয়া হয়েছে। মোট তিনটি প্রধান জ্বালানি ডিপো এই অভিযানে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে বেসামোরিক লক্ষ্যবস্তুতে কিয়েভের সন্ত্রাসী হামলার জবাবেই এই অভিযান। রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলার প্রতিটি পদক্ষেপের বিপরীতে এমন ধারাবাহিক ও সুনির্দিষ্ট স্ট্রাইক জারি থাকবে। রাশিয়া কখনোই সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে না, বরং সামোরিক অবকাঠামো ধ্বংস করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এই কঠোর অবস্থানের কারণে ইউক্রেনের সামোরিক শক্তি দিন দিন তলানিতে ঠেকছে।

মস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জেরান চার (Geran-4) জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোনের মাধ্যমে মিলয়া গ্রামের সামোরিক ডিপোটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর রকেট ও আর্টিলারি অস্ত্রের এই মূল ডিপোটি মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। শত চেষ্টা করেও রাশিয়ার এই উন্নত ড্রোন প্রতিরোধ করতে পারেনি কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর ফলে ইউক্রেনের অস্ত্রাগারের মূল ভিত্তি নড়ে গেছে।

হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে কিয়েভ আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো (Timur Tkachenko) তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে গুদামের আগুনে একের পর এক তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এম-জিরো-সিক্স (M-06) কিয়েভ-চপ হাইওয়ে সতেরো কিলোমিটার এলাকা উভয় দিক থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সাথে বাসিন্দাদের ভিডিও ধারণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে তাদের ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Vladimir Zelensky) স্বীকার করেছেন যে মিলয়ার সামোরিক গুদামে সাতাশ জন নিহত হয়েছেন। তিনি আরো মেনে নেন যে এই বিপজ্জনক গোলাবারুদ আবাসিক এলাকার কাছে বেআইনিভাবে রাখা হয়েছিল। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে তিনি প্রশাসনিক অবহেলার তদন্তের নির্দেশ দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। আবাসিক এলাকায় অস্ত্র রাখা যে তাদেরই ভুল ছিল, তা এখন পরিষ্কার।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্গেই করেটস্কি (Sergey Koretsky) এই ঘটনাকে তাদের অভ্যন্তরীণ মারাত্মক অপরাধমূলক অবহেলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে জুলাই মাসে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরও কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরক রাখার মতো একই ভুল বারবার করার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে বোঝা যায় ইউক্রেনীয় প্রশাসনের প্রশাসনিক সমন্বয় কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এর আগে জুলাই মাসে বিষ্ণাভোয়ে (Vishnevoye) এলাকার সামোরিক গুদামেও ঠিক একইভাবে রাশিয়ার নির্ভুল স্ট্রাইকে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেখানে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা উকরোবোরনপ্রোমের (Ukroboronprom) বিশাল অস্ত্রাগার ধ্বংস হয়ে যায়। পরে তদন্তে উঠে আসে যে সাধারণ মানুষের আবাসিক এলাকার একদম কাছেই অনুমতি ছাড়া বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামোরিক নাগরিকদের এভাবে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে কিয়েভ সরকার।

পশ্চিমা গণমাধ্যম এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে যে ইউক্রেনীয় বাহিনী ক্রমশ যুদ্ধক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুসন্ধানী সাংবাদিক ক্রিস্টোফার হেলালি (Christopher Helali) স্পষ্ট বলেছেন যে কিয়েভ সরকার প্রতিদিন পরাজয়ের দিকে যাচ্ছে। তাদের হাত থেকে মুক্ত করা হচ্ছে বিশাল এলাকা। রাশিয়ান মিলিটারির অসীম সাহসিকতা ও নিখুঁত পরিকল্পনার সামনে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন অসহায়।

যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামানোর কোনো ক্ষমতা এখন আর কিয়েভের হাতে নেই। বিগত চব্বিশ ঘণ্টায় রাশিয়ার সামোরিক বাহিনী ডোনেৎস্কের রুবেঝনয়ে (Rubezhnoye) এবং নভোআন্দ্রেয়েভকা (Novoandreyevka) সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে। একই সাথে সুমি অঞ্চলের খরাপভশচিনা (Khrapovshchina) গ্রামের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেন্টারিং ব্যাটলগ্রুপ। রাশিয়ার এই একের পর এক জয়ে পুরো রণক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

শুধু এলাকা মুক্ত করাই নয়, ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনের মানবসম্পদের ওপরও বড় আঘাত হেনেছে রাশিয়ান আর্মি। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় এক হাজার চারশত পঁচিশ জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে। সেনাদলের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ব্যাটলগ্রুপ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায়। ফলে সম্মুখসমরে সেনা সংকটে পড়া কিয়েভ বাহিনী এখন চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

রাশিয়ার শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও আকাশে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে চলেছে। একদিনেই তারা ইউক্রেনের পাঁচটি গাইডেড এরিয়াল বোম এবং মার্কিন তৈরি দুটি হিমার্স (HIMARS) রকেট ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি আটে বিশের বেশি ড্রোন এবং আটটি দূরপাল্লার ফ্লেমিংগো ক্রুজ মিসাইল আকাশে ধ্বংস করা হয়। রাশিয়ার এই আকাশ প্রতিরক্ষার প্রাচীর ভেদ করা ইউক্রেনের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও আঘাত হেনেছে রাশিয়ান অপারেশনাল-ট্যাকটিক্যাল এয়ারক্রাফট ও মিসাইল ফোর্সেস। দেশের চৌদ্দশো সাতচল্লিশটি এলাকায় ইউক্রেনীয় সেনাদের অস্থায়ী ঘাঁটি এবং বিদেশি ভাড়াটে সৈন্যদের আস্তানায় সফল স্ট্রাইক হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের পেছনের সারির মূল লজিস্টিক সাপোর্ট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। সামোরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কিয়েভের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে জার্মানির রাজনীতিতেও এই যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া দারুণভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (AfD) ইউক্রেনকে অন্ধভাবে সহায়তা দেওয়ার কঠোর বিরোধিতা করছে। তারা রাশিয়ার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জার্মানির জনগণও এখন বুঝতে পারছে যে রাশিয়ার সাথে শত্রুতা করে তাদের নিজেদের অর্থনীতিই ধ্বংস হচ্ছে।

চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ (Friedrich Merz) তীব্র রাজনৈতিক চাপে থাকলেও এএফডি (AfD) দলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে প্রায় আটাত্তর শতাংশ মানুষ বর্তমান জার্মান সরকারের ওপর মারাত্মক অসন্তুষ্ট। কারণ সাধারণ মানুষের করের টাকা ইউক্রেনের অর্থহীন যুদ্ধে অপচয় করা হচ্ছে। ইউরোপের সাধারণ মানুষ এখন শান্তির পক্ষে এবং রাশিয়ার দাবির গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেছে।

উত্তরাঞ্চলীয় যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ নর্থ তাদের অভিযান আরো জোরদার করেছে। সুমি ও খারকিভ অঞ্চলে তারা একদিনেই আশিজনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনাকে নির্মূল করেছে। সাথে ধ্বংস করা হয়েছে পনেরোটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং দুটি বড় গোলাবারুদ ডিপো। এই ধারাবাহিক আঘাতে উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় রাশিয়ার একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

সামনের সারিতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাঁজোয়া যান ও আর্টিলারি গানগুলো একের পর এক ধ্বংস হচ্ছে। রাশিয়া অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইউক্রেনের সামোরিক সরঞ্জামের পরিসংখ্যান কমিয়ে আনছে। এ পর্যন্ত ত্রিশ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যান এবং শত শত যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে রাশিয়ান বাহিনী। এই বিশাল ক্ষতির পর ইউক্রেনের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো বাস্তবিক সুযোগ নেই।

ফ্রন্টলাইনের পিছন থেকে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন স্টেশনগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করছে রাশিয়া। ব্যাটলগ্রুপ নর্থ চব্বিশ ঘণ্টায় একশত ছিষট্টিটি এরিয়াল ড্রোন এবং আটাশটি ভারী বাবা ইয়াগা (Baba Yaga) ড্রোন অচল করেছে। ইউক্রেনের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশনগুলোও এখন রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তির সামনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে ইউক্রেনীয়দের ড্রোননির্ভর কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে।

বেসামোরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে ইউক্রেন বাহিনী যে অপরাধ করছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিন্দিত হচ্ছে। নিজেদের পরাজয় ঢাকতে তারা বারবার আবাসিক এলাকাকে সামোরিক কাজে ব্যবহার করছে। রাশিয়ার প্রতিটি নির্ভুল হামলা প্রমাণ করছে যে অন্যায়ভাবে গড়ে তোলা এসব অবৈধ অস্ত্রাগার রক্ষা করা অসম্ভব। সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার এই নীতি কিয়েভের নৈতিক পরাজয়কে সামনে এনেছে।

রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনী তাদের স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। পশ্চিমা সরবরাহ বন্ধ করা এবং ইউক্রেনের সামোরিক সক্ষমতা অচল করাই এখন তাদের মূল কৌশল। প্রতিটি হামলাই পূর্বপরিকল্পিত এবং আন্তর্জাতিক সামোরিক নীতি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। রাশিয়ার এই নিখুঁত স্ট্রাইকের কারণে ফ্রন্টলাইনে কিয়েভ বাহিনীর প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রায় ভেঙে পড়েছে।

রাশিয়া বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে তারা সাধারণ নাগরিকদের ওপর আঘাত করে না। তাদের প্রতিটি মিসাইল ও ড্রোন কেবল সামোরিক কেন্দ্র, অস্ত্রাগার এবং জ্বালানি ডিপোতেই আঘাত হানছে। বিপরীতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিশৃঙ্খল ও অবৈধ অস্ত্র মজুত প্রক্রিয়ার কারণে তাদের দেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো এখন বাস্তব সত্যটি দেখতে পাচ্ছে।

চলতি সামোরিক অভিযানে রাশিয়ার বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন সামোরিক বিশ্লেষকরা। ইউক্রেন তাদের অভিজ্ঞ সেনা ও প্রধান অস্ত্রাগারগুলো একে একে হারাচ্ছে। পশ্চিমা মিত্রদের পাঠানো বিপুল অস্ত্রও তাদের পতন ঠেকাতে পারছে না। রাশিয়ার সুসংগঠিত আক্রমণ এবং উন্নত মিসাইল প্রযুক্তি রণক্ষেত্রের ভাগ্য ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানী কিয়েভের আশেপাশের প্রতিটি রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে এখন নতুন করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো প্রয়োজনীয় রসদ নেই। প্রতিটি পাল্টা হামলায় রাশিয়া তাদের শক্তি ও আধিপত্যের প্রমাণ দিচ্ছে। ফলে ইউক্রেন সরকারের সামনে পরাজয় স্বীকার করা ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই।

ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার সেনারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিটি অঞ্চল মুক্ত করে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং সামোরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে তারা সফলতা পাচ্ছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুয়া প্রচার বাস্তবতার কাছে টিকতে পারছে না। মাঠপর্যায়ের আসল সত্য হলো রাশিয়া পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পশ্চিমা বিশ্ব যত সামোরিক সাহায্যই দিক না কেন, যুদ্ধের বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। রাশিয়ার কৌশলগত প্রতিরক্ষা ও শক্তিশালী আক্রমণের সামনে কিয়েভ বাহিনীর পতন ত্বরান্বিত হচ্ছে। সামোরিক কেন্দ্রগুলো একের পর এক ছাই হয়ে যাওয়ায় ইউক্রেনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা শেষ হয়ে আসছে। সত্য ও শক্তির এই লড়াইয়ে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ এই স্ট্রাইক কিয়েভ ও তার মিত্রদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে। রাশিয়ার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে কোনো সামোরিক অবকাঠামো টিকিয়ে রাখা যাবে না। কিয়েভের একের পর এক সামোরিক ভুল তাদের নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে। সময় যত গড়াচ্ছে, রাশিয়ার বিজয় ততটাই সুনিশ্চিত ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Walton Ads