ঢাকা, সোমবার, মে ২০, ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Logo
logo
ইসলাম অবমাননা ও মানবতার প্রতি পরিহাসে ফ্রান্স

গাজার ক্ষুধার্ত মানুষ ও রোজাকে নিয়ে ফরাসি ম্যাগাজিনের ব্যঙ্গ কার্টুন পশ্চিমাদের বর্বরতারই আয়না


এনবিএস ওয়েবডেস্ক     প্রকাশিত:  ১৬ মার্চ, ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম

গাজার ক্ষুধার্ত মানুষ ও রোজাকে নিয়ে ফরাসি ম্যাগাজিনের ব্যঙ্গ কার্টুন পশ্চিমাদের বর্বরতারই আয়না

ফরাসি ম্যাগাজিন লিবারেসিউন পবিত্র রমজান মাসে গাজার ক্ষুধার্ত মুসলমানদের প্রতি পরিহাসমূলক কার্টুন প্রকাশ করেছে। বর্ণবাদী এই ফরাসি ম্যাগাজিনের ওই কার্টুনে দেখানো হয়েছে এক ফিলিস্তিনি নারীর পাশে বসে রয়েছে তার শিশু। ক্ষুধার কষ্টে তার জিভ বেরিয়ে এসেছে।

অন্যদিকে এক ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনি পুরুষ কয়েকটি ইঁদুরের পেছনে ছুটছেন যাদের মুখে রয়েছে হাড়। ওই পুরুষের মুখ থেকে লালা ঝরছে। এই পুরুষ চেষ্টা করছেন ইঁদুরগুলোর মুখ থেকে হাড়গুলো  সংগ্রহ করতে। কিন্তু ওই ফিলিস্তিনি নারী পুরুষটিকে বলছেন সূর্যাস্তের আগে এই কাজ করো না। অর্থাৎ মাগ্বরিবের আযান বা সূর্যাস্তের সময় ইফতার শুরু হবে।

ফরাসি ম্যাগাজিন লিবারেসিউন-এর প্রধান সম্পাদক দাউ এলফোন অতীতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী ছিলেন। ইসলাম-বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী এই ম্যাগাজিনের মালিক প্যাট্রিক ড্যারহি একজন ফরাসি-ইসরাইলি ধনকুবের তথা শত শত কোটি ডলার সম্পদের অধিকারী।

কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, এই কার্টুন ফ্রান্সে ইসলাম-বিদ্বেষ ও ইসলাম-আতঙ্ক ছড়ানোর একটি দৃষ্টান্ত। অন্য অনেক বিশ্লেষক বলছেন, পাশ্চাত্য মুসলমান ও ইসলামের বিষয়গুলোতে নানা ধরনের দ্বিমুখী নীতি বা কপটতার চর্চা করছে। ফ্রান্সসহ পশ্চিমা অনেক দেশে হিজাবসহ মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিরোধী নানা আইন এবং মুসলমানদের ওপর নানা কঠোরতা আরোপ ক্রমেই জোরদার করা হয়েছে।

খ্রিস্টান নান বা মহিলা পুরোহিতদের পোশাক ও মুসলিম মহিলাদের হিজাব একই ধরনের হলেও খ্রিস্টান নানদের পোশাক  ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধী বলে তুলে ধরা হয় না পাশ্চাত্যে।

মহানবী (সা) ও ইসলামের পবিত্রতার বিরুদ্ধে কথা বলা কিংবা ব্যাঙ্গ চিত্র প্রকাশকে বাক-স্বাধীনতা বলে দাবি করা হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কথিত ইহুদি-নিধন বা হলোকাস্টের অতিরঞ্জিত প্রচারণার বিপক্ষে মত-প্রকাশ ও গবেষণা করাকে ইহুদি-বিদ্বেষ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোটি কোটি খ্রিস্টান ও মুসলমানও নিহত হয়েছিল, অথচ ইহুদি-নিধনের সংখ্যা ও ইহুদিদের কথিত দুর্ভোগকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক মহল ও গণমাধ্যম  কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতায় মুসলমান কোনো ব্যক্তি জড়িত হলে ওই ঘটনাকে ইসলামী সন্ত্রাস বলে প্রচার করে, অথচ খ্রিস্ট বা অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত হলে সেক্ষেত্রে ওই ধর্মের নাম উল্লেখ করে না।

গাজাবাসীর ওপর ইহুদিবাদী বর্বরতা ও গণহত্যা যখন সব ধর্মের অনুসারী বিশ্ব-জনমতকে গভীরভাবে ব্যথা-ভারাক্রান্ত করছে তখন ক্ষুধার্ত গাজাবাসীকে নিয়ে পরিহাস ও রমজানের রোজার প্রতি কটাক্ষ পাশ্চাত্য ও ইহুদিবাদী চক্রের দোসরদের পাশবিক চেহারাকে আবারও স্পষ্ট করল। খবর পার্সটুডের