বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিল। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা তাদের এখতিয়ারের বাইরে।
ইকবাল কবির জাহিদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার রাখাইনে ‘মানবিক করিডোর’ স্থাপন, চট্টগ্রাম নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনার জন্য আমিরাতের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি এবং চট্টগ্রাম ইপিজেডে কাতারকে সমরাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির প্রস্তাবের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করা।
সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার আমলে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। তিনি চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই লড়াইকে আরও জোরদার করতে হবে। তিনি গোপন চুক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতীয় স্বার্থ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে বাম, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন এএসএম কামাল উদ্দিন, বজলুর রশিদ ফিরোজ, সাইফুল হক, শুভ্রাংশু চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
ইকবাল কবির জাহিদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে। এই দাবিগুলো কীভাবে সমাধান হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও জনগণ উদগ্রীব।