সোহাগ হাসান জয়, সিরাজগঞ্জ: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বাংলাদেশ এগোবে—এটাই সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালনার মতো অভিজ্ঞ কোনো রাজনৈতিক দল নেই। দেশের শাসন ও উন্নয়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কে জেলা বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। প্রতিনিয়ত কষ্ট করে তারাই দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। পাশাপাশি যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাও আমাদের বড় দায়িত্ব।

তারেক রহমান বলেন, সামনে অনেক কাজ বাকি। ২০ কোটি মানুষকে একসাথে নিয়ে এগোতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুবকদের দক্ষ করে তুলতে আইটি সেন্টারসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, তাঁত বা লুঙ্গির কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা। এখানকার মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সিরাজগঞ্জের তাঁতপণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন অনেকেই বিভ্রান্ত করতে আসবে—দেখামাত্র বলবেন, ‘গুপ্ত তোমরা’। কারণ গত ১৬ বছর তাদের দেখা যায়নি। যারা ৫ আগস্ট পালিয়েছে, তারা এতদিন আড়ালে ছিল।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রোমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা।

সমাবেশে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার এমপি পদপ্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন তিনি। জনসভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের লক্ষাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তারেক রহমান টাঙ্গাইলের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে রওনা হন।

এদিকে সকাল থেকেই সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাবেশে যোগ দেন। বেলা ১২টার মধ্যেই সমাবেশস্থল ও আশপাশের সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

সমাবেশ ঘিরে জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় সাত শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। মঞ্চের দুই পাশে বড় ডিসপ্লের ব্যবস্থা করা হয়। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রঙের পোশাক ও টুপি পরে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ধোপাকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন।

 

Walton Ads