বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনের দলীয় প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, "শুনছি নির্বাচনের ফল ঘোষণায় অনেক সময় লাগবে। বলি ভাই! নির্বাচন শেষ হওয়ার ২ ঘন্টার মধ্যে ফলাফল না দিতে পারলে সর্বোচ্চ ১২ ঘন্টা লাগতে পারে। ১২ ঘন্টা পার হলেই বুঝবো কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে। মানে হচ্ছে, শেখ হাসিনা এক স্টাইলে করছেন, আপনারা আরেক স্টাইলে করবেন! নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত আমাদের কোনো পোলিং এজেন্ট বাড়ি ফিরবে না।"

আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে হাব, বায়রা ও অ্যাটাব—এই তিনটি সংগঠনের সাথে এক নির্বাচনী আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এরপর তিনি ভাসানী গলি থেকে শুরু করে জোনাকী সিনেমা হলের গলি এবং পল্টন থানার উল্টো দিকের গলিতেও গণসংযোগ করেন। বিকেলে পুরানা পল্টন জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে আশেপাশের এলাকায় মানুষদের সাথে কথা বলেন। রাতে সেগুনবাগিচার স্বজন টাওয়ার, নকশী টাওয়ার, ডোম ইনো আলতুরা এবং সিলিকন ভিলা-ইস্টার্ন ড্রিমে আলাদা আলাদা উঠোন বৈঠকের আয়োজন করবেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, "বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থামেনি। মনে হচ্ছে ঢাকা-৮ আসনেই শুধু নির্বাচন চলছে। এখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যাতে সারাদেশের নির্বাচনই বানচাল হয়ে যায়। তারা নানা ভাবে উসকানি দিচ্ছে। আমি এবং নেতাকর্মীরা ধৈর্য ধরছি। আল্লাহর শুকরিয়া, তিনি আমাকে ধৈর্য ধরার ক্ষমতা দিয়েছেন।"

উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আমাকে শুধু সমর্থন দিলেই হবে না। আমার সমর্থক ও কর্মীদের সবার কাছে যেতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাজারে যদি ১০ জন করে ভোটারের সাথে কথা বলেন, তাহলে আমার কাজে লাগবে। শুধু আমার জয়ই বড় কথা নয়, সারাদেশে বিএনপিকেই জয়ী হতে হবে।"

তিনি বলেন, "আমরা এখন কেমন আছি? হাসিনা চলে যাবার পর আমরা যতটা ভালো থাকার কথা ছিল, ততটা ভালো নেই। শুধু পুলিশের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছি। আর কোথাও ভালো নেই, স্বস্তিতে নেই। এটি আমাদের দুর্ভাগ্য।"

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, "অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এই নির্বাচন। এটা কোনো দান নয়। মুক্তিযুদ্ধও কোনো দান নয়। অনেকে মনে করে কয়েক দিনের আন্দোলনের ফল এই ১২ জানুয়ারি। কিন্তু আমরা ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করেছি, অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন। আমরা তোমাদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করেছি, ভিত গড়ে দিয়েছি। যার পেছনে দেশের মানুষ কাজ করেছে।"

আব্বাস বলেন, "রাজনীতি করতে গেলে সভা-সমাবেশ করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন নির্ভর করে একজন মানুষের সারাজীবনের ভালো কাজ ও সুনামের উপরে। আমি যখন তরুণ ছিলাম, তখন মঞ্চে বলা হতো 'উপস্থিত আছেন অমুক বর্ষীয়ান নেতা'। আজ আমাকে উদ্দেশ করে 'বর্ষীয়ান নেতা' বলা হয়। অনেকে মনে করে বয়স হয়েছে। কিন্তু আমার যে অভিজ্ঞতা, তা তোমাদের নেই। তোমরা আগামীতে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।"

তিনি বলেন, "এখন এমন কিছু ছেলে-পেলেগজিয়েছে যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ বানিয়েছে। সারাদিন শুধু আমাকে বকাবকি করে। আমাকে বকা ছাড়া যেন তাদের অন্য কোনো কাজ নেই। তুমি তো সেদিন চাঁদপুর থেকে এসেছ, আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না। এলাকার মানুষ আমাকে চেনে। ঢাকা-৮ আসন একটি ব্যবসায়িক এলাকা। এখানে কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না যে স্বার্থের জন্য মির্জা আব্বাসকে এক কাপ চা খাওয়াতে পেরেছে। আজকে এই অর্বাচীন বালকদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। আর এর জন্য আন্দোলনের দরকার নেই, দরকার ভোট। আপনারা সকলে একসাথে কাজ করলে আমি জয়ী হব ইনশাআল্লাহ।"

তিনি বলেন, "কষ্টার্জিত এই ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। একটি দল নাকি ৪০ লাখ বোরখা বানিয়েছে। অনেকে পুরুষ সেজে নকল ভোট দিতে পারে। কর্মীদের এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।"

 

Walton Ads