বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে দেশের সব নাগরিক দিন–রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন।

সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাজধানীর বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এই সময়ে অসংখ্য মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে রক্ষা করা এবং একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করাই এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’

ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে কোনো নাগরিককে ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের মুখে পড়তে হবে না। মানুষের মূল্যায়ন হবে তার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও শ্রমজীবীসহ সব শ্রেণির মানুষ যেন নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা জরুরি।’ এ লক্ষ্যে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রামের মানুষ এখনো প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতনতা বাড়বে, যা একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

Walton Ads