পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে জয় পাওয়ার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নুরুল হক নুর। মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুর বলেন, “সব প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামিনের জন্য। গতকালের এ বিজয় আমি গলাচিপা-দশমিনাবাসীর তরে উৎসর্গ করলাম। আপনাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থনের ঋণ কখনো শোধ করতে পারব না।”
তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় রাজনীতিতে ব্যস্ততার কারণে সবার কাছে সরাসরি পৌঁছাতে না পারলেও জনগণ তাকে আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান হিসেবে বিজয়ী করেছেন। এই সমর্থন তাকে আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীল, মানবিক ও ন্যায়পরায়ণ হতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও জানান তিনি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দলীয় সমর্থন, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা তার বিজয়ের পথ সুগম করেছে। এজন্য তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান নুর। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জেলা প্রশাসন পটুয়াখালী, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা প্রশাসন এবং নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।
গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন দরবার শরিফের গুরুজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, পেশাজীবী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ সর্বস্তরের কর্মী-সমর্থকদের প্রতিও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নুর বলেন, “আপনারা কষ্ট ভুলে যান, অপরাধীদের ক্ষমা করুন—এটাই আপনাদের মাহাত্ম্যকে বড় করবে।” ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য জানান, গলাচিপা-দশমিনায় সমতাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। গরিব, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গলাচিপা-দশমিনা হবে শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জনপদ। মাদক, চুরি, ডাকাতি, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে জনগণকে নির্ভয়ে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা, হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, অফিস-আদালত হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও আস্থা রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন নুর।
সবশেষে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, জনগণ পাশে থাকলে যে কোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।