দেশের প্রযুক্তিপণ্য খাতের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এবং ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা সর্বসম্মতিক্রমে এই একীভূতকরণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র সঙ্গে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। বুধবার, ৩ জুন, ডিজিটাল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডার অংশ নেন। সভায় একীভূতকরণের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়।
চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম বলেন, ওয়ালটন হাই-টেক দেশের অন্যতম শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স ও বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ওয়ালটন ডিজি-টেক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মুদ্রণযন্ত্র, মোবাইল ফোন, সার্কিট বোর্ড, বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। তাঁর মতে, দুই প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণে পণ্যের পরিধি আরও শক্তিশালী হবে, বাজার সম্প্রসারণ সহজ হবে এবং পরিচালন ব্যয় কমে আসবে।
সভায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, এই উদ্যোগ শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় নয়; বরং প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা এবং বাজার সম্প্রসারণ কৌশলকে একীভূত শক্তিতে রূপান্তরের একটি পদক্ষেপ। তিনি জানান, এর ফলে সম্পদের ব্যবহার আরও দক্ষ হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অধিক মূল্য সৃষ্টি হবে।
সভায় অংশ নেওয়া শেয়ারহোল্ডাররাও একীভূতকরণ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও সুদূরপ্রসারী ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁদের মতে, এ পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক পরিধি বৃদ্ধি, সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং নতুন বাজার সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়ালটন ডিজি-টেকের প্রতি ৩৮ দশমিক ৪৫টি শেয়ারের বিপরীতে ওয়ালটন হাই-টেকের একটি শেয়ার ইস্যু করা হবে। সেই হিসাবে ডিজি-টেকের ৩ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ওয়ালটন হাই-টেক মোট ৭ লাখ ৮০ হাজার ২৩৪টি নতুন শেয়ার ইস্যু করবে।
সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন ওয়ালটন হাই-টেকের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, উদ্যোক্তা পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী ও এস এম রেজাউল আলম, পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভী, তাহমিনা আফরোজ, রাইসা সিগমা হিমা এবং সাবিহা জারিন অরনা, স্বতন্ত্র পরিচালক ড. সাদিকুল ইসলাম, পিএইচডি, এফসিএমএ ও জোহরা বিবি।