এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার মিয়া জেলু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। উইম্বলডন ২০২৫ টেনিস টুর্নামেন্টের কোর্টসাইডে তার এআই জেনারেটেড ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে। জুলাইয়ের ৭ তারিখে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিগুলোতে মিয়াকে অল ইংল্যান্ড ক্লাবে পিমস পানীয় হাতে দেখা গেছে।

"ইভেন্টটা এখনও ভুলতে পারিনি... কিন্তু পার্টি সম্পূর্ণ অন্য ব্যাপার। তোমার প্রিয় উইম্বলডন ম্যাচ কোনটা ছিল?" ক্যাপশন সহ এই পোস্টটি ৫৫ হাজারের বেশি লাইক পেয়েছে। যদিও মিয়ার প্রোফাইলে স্পষ্টভাবে "ইনফ্লুয়েন্সার-এআই" এবং "ডিজিটাল স্টোরিটেলার" লেবেল থাকলেও, অনেক ব্যবহারকারীই প্রথমে এটিকে বাস্তব মানুষ ভেবে ভুল করেছেন।

মিয়া জেলুর স্রষ্টা অজ্ঞাতপরিচয়। এই ভার্চুয়াল ব্যক্তিত্বটি শুধু ইভেন্ট অ্যাটেন্ডেন্সের ছবিই শেয়ার করেন না, বরং মানবিক আবেগ ও সংবেদনশীলতাও প্রকাশ করে থাকেন। জুন ৮-এর একটি পোস্টে তিনি বার্নআউটের সময় ভালো ভান করার কষ্টের কথা লিখেছিলেন, যা অনেক ব্যবহারকারীর সাথে অনুরণন সৃষ্টি করেছিল।

মিয়ার একটি এআই জেনারেটেড "বোন"ও রয়েছে - আনা জেলু, যার ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৩ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে। গত ১৪ মার্চ আনা তার ফলোয়ারদের সাথে মিয়াকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, এই ভার্চুয়াল বোনদের সম্পর্ককে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলার জন্য।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই জেনারেটেড কন্টেন্টের ক্রমবর্ধমান পরিশীলিত রূপ এবং এর প্রভাবকে তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে এমন ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সারদের সংখ্যা বাড়তে পারে, যা বাস্তব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে পার্থক্য করা আরও কঠিন করে তুলবে।

মিয়া জেলুর মতো এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা ব্র্যান্ড প্রমোশন থেকে শুরু করে সামাজিক বার্তা প্রচার পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নও উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, এআই জেনারেটেড কন্টেন্টে স্পষ্ট লেবেলিং বাধ্যতামূলক করা উচিত, যাতে ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত না হন।

এই প্রযুক্তির উন্নতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি বাস্তবসম্মত ভার্চুয়াল ব্যক্তিত্ব দেখতে পাবো বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে বাস্তব ও কৃত্রিমের মধ্যে এই সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে আসছে, যা নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। খবর এনডিটিভি

news