বলিউড হারালো তার সোনালি যুগের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। বরেণ্য অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মধুমতী আর নেই। বুধবার (১৫ অক্টোবর) ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। খবরটি নিশ্চিত করেছে পিঙ্কভিলা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। বুধবার দুপুরে ঘুম থেকে আর না জাগতেই তার মৃত্যু হয়। সেদিন বিকেলেই মুম্বাইয়ের বুওশিওয়ারা শ্মশানে সম্পন্ন হয় তার শেষকৃত্য।

মধুমতীর মৃত্যুর খবরে পুরো বলিউডে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অক্ষয় কুমার, বিন্দু দারা সিং, চাঙ্কি পান্ডে ও জসবিন্দ্র নরুলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক জানিয়েছেন। নাচ ও অভিনয়ের পাশাপাশি শিক্ষক হিসেবেও তিনি ছিলেন বলিউডে সমান শ্রদ্ধেয়। তার বহু ছাত্রছাত্রী আজ শোকাহত।

মধুমতীর আসল নাম ছিল হুটোক্সি রিপোর্টার। কর্মজীবনে তিনি অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র, দিলীপ কুমার ও জিতেন্দ্রর মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে। অনবদ্য নাচ ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ের জন্য তিনি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন খুব দ্রুতই।

চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে প্রায়ই তুলনা করা হতো বলিউডের আইকনিক পারফর্মার হেলেনের সঙ্গে। তার জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘আঁখে’, ‘টাওয়ার হাউস’, ‘শিকারি’ ও ‘মুঝে জিনে দো’।

১৯৩৮ সালে জন্ম নেওয়া মধুমতী মাত্র ১৯ বছর বয়সে সিনেমায় কাজ শুরু করেন। ১৯৫৭ সালে মারাঠি সিনেমায় নৃত্যশিল্পী হিসেবে তার অভিষেক হয়। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা। তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ভরতনাট্যম, কত্থক, কথাকলি ও মণিপুরী নৃত্যকলায়।

ব্যক্তিগত জীবনে মধুমতী বিয়ে করেছিলেন নৃত্যশিল্পী দীপক মনোহরকে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। দীপক বয়সে অনেক বড় এবং চার সন্তানের পিতা ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পরই মধুমতীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

বলিউডে এক যুগের পর্দা নামালেন তিনি, কিন্তু তার নাচ ও হাসি আজও অমর হয়ে আছে কোটি দর্শকের মনে।

 

Walton Ads