ঢাকা: বিনোদন জগতের খবর মানেই নিত্যনতুন নাটক আর বিতর্ক! আর এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। মডেলিং এবং নাটকের জগত মাতিয়ে সম্প্রতি বড় পর্দায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। নিজের প্রথম সিনেমার শ্যুটিং শুরু করার মাঝেই একের পর এক অভিযোগে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এই তারকা।

দুটি ফ্যাশন হাউসের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তিশার বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন ভারতীয় এক প্রযোজক।

বিস্ফোরক অভিযোগ: ‘ভালোবাসার মরশুম’ নামে একটি সিনেমার প্রযোজক শরীফ খান দাবি করেছেন, তাঁর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা নাকি আত্মসাৎ করেছেন তিশা।

তিশার জবাব: এমন পরিস্থিতিতে চুপ থাকেননি তিশা। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে দেওয়া লম্বা পোস্টে তানজিন তিশা পুরো বিষয়টি খুলে বলেন।

"সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় পরিচালক এম এন রাজের সঙ্গে আমার “ভালোবাসার মরশুম” সিনেমাটি করার কথা ছিল। এ বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"

তিশা স্পষ্ট করে জানান, তিনি যখন সিনেমাটিতে চুক্তিবদ্ধ হন, তখন তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে সই করা চুক্তিপত্রে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল।

চুক্তিপত্রের শর্ত: তাঁর বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত সব দায়দায়িত্ব— যেমন ভিসা করানো, ফ্লাইটের টিকিট এবং সেখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা— সবটাই পরিচালক এবং প্রযোজকের।

নির্মাতার ব্যর্থতা: তিশার দাবি, দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরিচালক/প্রযোজক তাঁর ভিসা করিয়ে দিতে পারেননি। অভিনেত্রী নিজেও ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেও ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করতে ব্যর্থ হন।

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার জন্য তিনি নির্মাতাকেই দায়ী করেছেন। তিশা বলেন,

"ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা যেহেতু চুক্তি অনুযায়ী ডিরেক্টরের দায়িত্ব ছিল, তাই আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে আমার কোনো দায় হতে পারে না। এটা ডিরেক্টরের ব্যর্থতা।"

তিনি প্রায় ২ মাস ভিসার জন্য অপেক্ষা করার পরেও কাজ হয়নি। ফলে, নির্মাতারা এর মধ্যেই অন্য একজনকে তাঁর চুক্তিবদ্ধ চরিত্রের জন্য নিয়ে এসে শ্যুটিং শুরু করে দেন।

এরপরই তিনি বাংলাদেশের একটি নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন, যার কাজ বর্তমানে চলছে। তাই বাধ্য হয়েই তাঁকে ওই ভারতীয় প্রজেক্ট থেকে সরে আসতে হয়েছে।

লাইন প্রডিউসার শরীফ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিশা পাল্টা আক্রমণ করে বলেন,

"লাইন প্রডিউসার শরীফ একবার আমাকে বলছেন, এক-তৃতীয়াংশ টাকা ফেরত দিতে, আবার আমার আইনজীবীকে বলছেন কিছু টাকা ফেরত দিলেই হবে, আবার সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার চেষ্টা করছেন, যার মাধ্যমে তিনি অর্থ হাতিয়ে নিতে চান। এটা নিছকই একটি অপচেষ্টা।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, তাঁর চুক্তিপত্রে এমন কোনো ক্লজ নেই যে ডিরেক্টরের ভুলে কাজ শুরু না হলে তাঁকে টাকা ফেরত দিতে হবে। তবে তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

তিশার চ্যালেঞ্জ: "আইন-আদালতে যদি তাঁরা প্রমাণ করতে পারেন যে আমি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য এবং আদালত যদি এমন নির্দেশনা প্রদান করেন, তাহলে আমি অবশ্যই তা মেনে নেব এবং টাকা ফেরত দেব।"

Tanjin Tisha, Bangladeshi actress, film controversy, Indian producer, money embezzlement accusation, Bhalobashar Morshum, MN Raj, visa complexity, contract dispute, Shariif Khan, social media statement, acting career, legal action, showbiz news, Dhaka film industry.

Walton Ads