বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো ঋণ ও খেলাপি ঋণের বিশাল চাপ। সরকারি ঋণের বোঝা এবং ব্যাংক খাতের বিপুল খেলাপি ঋণ দেশের বাজেট, বিনিয়োগ, ব্যবসা, আমানতকারী ও সাধারণ মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংক খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঋণ এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

এই সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের ঋণ ব্যবস্থাপনা, দুর্বল তদারকি, পুনঃতফসিল, ঋণ আদায়ের ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক দুর্বলতাও আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই বিশাল আর্থিক চাপ কীভাবে সামাল দেবে বর্তমান বিএনপি সরকার?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যাংকিং খাত সংস্কার, ঋণ আদায়, সুশাসন বৃদ্ধি, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন একটি IMF-supported অর্থনৈতিক কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে। IMF জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং কম রাজস্ব আহরণ নতুন সংস্কার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই ভিডিওতে আমরা বিশ্লেষণ করেছি আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের ঋণ ও ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়ে ওঠা প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সামনে থাকা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সংস্কারের উদ্যোগ।

তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ঋণের সবটাই যে অপচয় বা অনিয়মের ফল, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়। উন্নয়ন প্রকল্প, বাজেট ঘাটতি, বৈদেশিক অর্থায়নসহ বিভিন্ন বৈধ কারণেও সরকারি ঋণ তৈরি হয়। একইভাবে সব খেলাপি ঋণও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির ফল নয়। তাই তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি।

Walton Ads