আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ফের গ্রেপ্তার করলো ১৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে। তাদের মধ্যে সবাই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। বুধবার (৭ আগস্ট) এই ঘটনার সময় দুটি ভারতীয় মাছ ধরার নৌকোও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ১০ জনের একটি দল পম্বন বন্দর থেকে মাছ ধরতে বের হয়েছিল। তারা শ্রীলঙ্কার কারপিট্টির কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছিল। এই সময়েই শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী তাদের আটক করে এবং ভেনবুঝা বন্দরে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, বাকি ৪ জন জেলে ধরা পড়েন কাচ্চিথিভু দ্বীপের আশপাশের এলাকায়। তাদেরও একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কাঙ্গেসান্তুরাই ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা একেবারে নতুন নয়। শ্রীলঙ্কার জলসীমা অতিক্রম করায় ভারতীয় জেলেদের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা প্রায় নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রের বিভিন্ন বন্দরে ও ডিটেনশন ক্যাম্পে বর্তমানে বহু ভারতীয় মৎস্যজীবী আটক রয়েছেন।
এই ইস্যুতে আগেও পদক্ষেপ নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। গত বছর ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে চিঠি পাঠিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন দাবি জানান, আটক জেলেদের দ্রুত মুক্ত করা হোক। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, শ্রীলঙ্কার হাতে একের পর এক গ্রেপ্তারের ঘটনায় জেলেরা এখন আতঙ্কে ভুগছেন।
তাঁদের জীবিকা নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তা। সমুদ্র সীমা ঘেঁষে যারা মাছ ধরাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন, তারা নিয়মিতভাবে এই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
এই ঘটনা আবারও দক্ষিণ ভারতের সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক সীমা নিয়ে বিতর্ককে সামনে নিয়ে এলো। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
