পদত্যাগ করলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার। একইসঙ্গে ক্ষমতাসীন দল ‘ফাইন গেইল পার্টি’র প্রধানের পদও ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার (২০ মার্চ) রাজধানী ডাবলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লিও। খবর বিবিসি ও আল জাজিরার।

ডাবলিনে সরকারি ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের লিও বলেন, ফাইন গেইল পার্টির প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করছি আমি। একইসঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।

দেশটিতে সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী ৪৫ বছরের ভারাদকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদে নতুন কেউ এলেই আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবো। এটিই আমার সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময়।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে লিও ভারাদকার বলেন, আমার এ সিদ্ধান্তের কারণ কিছুটা ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক। তবে রাজনৈতিক কারণই বড়।

২০১৭ সালে প্রথমবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদে ক্ষমতায় আসা লিও ভারাদকার আরও বলেন, টানা সাত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার পর আমার মনে হচ্ছে, দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার মতো সেরা মানুষটি আমি নই।

যদিও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি আইরিশ মা এবং ভারতীয় বাবার সন্তান লিও ভারাদকার। তবে আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে দলীয় প্রধানের পদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে এবং পার্লামেন্টের ইস্টার বিরতির পরই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন কাউকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন লিও।

আয়ারল্যান্ডে একজন সমকামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত লিও ভারাদকার। তিনি ২০১৫ সালে দেশটিতে সমকামী বিবাহ এবং ২০১৮ সালে গর্ভপাত নিষিদ্ধ বাতিলের আইন পাসে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

সম্প্রতি ভারাদকারের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার সংবিধানে দুটি সংশোধনীর প্রস্তাব এনে গণভোটের আয়োজন করে। তবে ওই গণভোটের বিপুল ভোটে পরাজিত হয় সরকার। এ নিয়ে দলের ভেতরে তোপের মুখে পড়েন ভারাদকার।

এমনকি ফাইন গেইল পার্টির অন্তত ১০ জন এমপি আগামী নির্বাচনে ভোটে দাঁড়াবেন না বলে ঘোষণা দেন। জোট সরকারের পার্লামেন্টে এক-তৃতীয়াংশ এমপির এমন ঘোষণায় মূলত আগেভাগেই সরে দাঁড়ালেন ভারাদকার। যদিও তার আশা, আগামী নির্বাচনে ফাইন গেইল পার্টিই ফের ক্ষমতাসীন হবে।

Walton Ads