শুক্রবার সকালটা ইউক্রেনের জন্য যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে আসে। খারকিভ শহরের মানুষ যখন দিনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই রাশিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শহরটাকে কাঁপিয়ে তোলে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান একজন বাসিন্দা, আর কাছাকাছি সুমি শহরে একটি বেকারিতে ড্রোন হামলায় মারা যান আরেকজন। বেকারিটা ছিলো ইস্টার উৎসবের জন্য কেক তৈরি করছিল, তাই সেখানে কর্মরতদের উপস্থিতি ছিল বেশি। এক নিমিষে আনন্দমুখর পরিবেশ বদলে যায় আতঙ্ক আর কান্নায়।

খারকিভের মেয়র ইগোর তেরেখভ জানিয়েছেন, হামলায় কমপক্ষে ৭৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু। ভাবুন তো, মাত্র ৩ আর ৪ বছর বয়সের শিশুরাও এর শিকার! এমনকি ১৪, ১৬ আর ১৭ বছর বয়সী কিশোররাও আহত হয়েছে। ১৫টি আবাসিক ভবন, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই হামলায়। যুদ্ধ যে শুধু সামরিক স্থাপনায় হয় না, সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিটি কোণায় কোণায় তার ছায়া পড়ে—এ ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

সুমি শহরে একটি ইস্টার কেক তৈরির কারখানায় ড্রোন আঘাত হানে, ঘটনাস্থলেই একজন প্রাণ হারান। মনে করুন, আপনি সকালে কাজে যাচ্ছেন, কেক বানাচ্ছেন উৎসবের জন্য, আর হঠাৎই জীবন থেমে গেল। যুদ্ধ এমনই নিষ্ঠুর—কে কখন, কোথায় থাকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কেবল খারকিভ বা সুমিই নয়, একই সময় রাশিয়ার টার্গেটে ছিল লভিভ, দিনিপ্রো, মাইকোলাইভ ও কিয়েভ শহরও। ভোর ৫টার দিকেই এসব হামলা শুরু হয়, যখন কারফিউ শেষ হয় এবং মানুষ ঘর থেকে বের হতে শুরু করে। ঠিক তখনই শহরের নানা জায়গায় বিস্ফোরণ, ধ্বংস, আতঙ্ক। দিনিপ্রোতে একটি মিসাইল জিম, হোটেল ও অফিস ব্লকের কাছাকাছি আঘাত হানে। ভাগ্যক্রমে এখনো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক।

ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার অগ্রগতি না হলে চেষ্টা বন্ধ করে দেবেন। তিনি প্যারিসে সাংবাদিকদের বলেন, “দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—শান্তি সম্ভব কি না।” এমন মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাটা দিনকে দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সাথে একটি চুক্তি চূড়ান্তের পথে আছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার পাবে। যুদ্ধের মাঝে অর্থনৈতিক স্বার্থ যেন আলাদা করে আলোচনায় চলে আসছে। যুদ্ধ থামেনি, বরং ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন আর লক্ষ্য। খবর আলজাজিরার

#ইউক্রেনযুদ্ধ #খারকিভহামলা #রাশিয়ারআক্রমণ #শান্তিচেষ্টা #বিশ্বরাজনীতি

news